ডিভিসির কর্মী সংগঠনের নির্বাচন উপলক্ষ্যে ছাতা মিছিলের আয়োজন মেজিয়ায়

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১২ এপ্রিল: ডিভিসির কর্মী সংগঠনের নির্বাচন ২৮ এপ্রিল। নির্বাচন ঘিরে চলছে জোরদার প্রচার।এই নির্বাচনে এবার অভিনব ছাতা মিছিল আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

কেন্দ্রীয় এই সংস্থাটির কর্মী সংগঠনের এটি তৃতীয় নির্বাচন। কোন সংগঠন সংস্থায় রিকগনাইজ পাবে তা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। ঝাড়খণ্ডের কোডারমা থেকে এ রাজ্যের কলকাতা পর্যন্ত ডিভিসির বিদ্যুৎ প্রকল্প, সাবস্টেশন, জলাধার সহ দামোদর উপত্যকার সর্বত্র নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন কর্মীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাতা মিছিলে মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্প সরগরম হয়ে ওঠে। ডিভিসির শ্রমিক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ ‘শ্রমিক ইউনিয়নে’র নামে ‘ছাতা’ প্রতীকে এই নির্বাচন লড়ছে। সে কারণেই এই ছাতা নিয়ে মিছিল বলে জানান বিদ্যুৎ প্রকল্পের এক কর্মী সদানন্দ মাজি। তিনি বলেন, এই যৌথ মঞ্চে রয়েছে সিটু পরিচালিত শ্রমিক ইউনিয়ন, ইনটাক অনুমোদিত কর্মচারী সংঘ  ইউটিইউসি পরিচালিত স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন এবং এআইটিইউসি’র মজদুর ইউনিয়ন। অন্যদিকে বাকি প্রতিদ্বন্দ্বী ২ ‘টি ইউনিয়ন হল তৃণমূল সংগঠনের কামগার সংঘ ও ভারতীয় মজদুর সংঘ। উল্লেখ্য, এই প্রথম ওই ৪ ইউনিয়ন একসাথে মোর্চা তৈরি করে ভোট যুদ্ধে নেমেছে।

এ বিষয়ে মোর্চার অলভ্যালি স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সমীর বাইন বলেন, গত ২০১৭ সালের নির্বাচনে কামগার সংঘ মাত্র ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে ডিভিসির স্বীকৃত ইউনিয়নের মর্যাদা পায়। অন্যদিকে শ্রমিক ইউনিয়ন ৩০ % ভোট পেলেও তাদেরকে মান্যতা দেয়নি। এরপর থেকে সপ্তম বেতন কাঠামো তৈরি থেকে কর্পোরেশনের সমস্ত কিছুর অনুমোদন ডিভিসি একতরফা ভাবে বের করে আসছে। সেখানে স্বীকৃতি ইউনিয়ন হওয়া সত্বেও কামগার সংঘের স্বাক্ষর থাকছিল না। কারণ শ্রম আইন অনুযায়ী ৫১ শতাংশ ভোট না পেলে স্বীকৃত ইউনিয়নের কার্যত ক্ষমতা থাকে না। তথাপি ওই ইউনিয়নটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একের পর এক অনায্য ও শ্রমিক বিরোধী সার্কুলার প্রকাশ করেছে।

আইএনটিইউসি নেতা অরিন্দম ব্যানার্জি বলেন, আমরা লক্ষ্য করলাম ধীরে ধীরে কর্পোরেশন শূন্য পদ গুলি বিলোপ করে দিচ্ছে। গত ৭ বছরে কর্মী সংখ্যা কমতে কমতে অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে অফিসারের সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে। এতে ডিভিসিতে যে শ্রমিক শোষণ শুরু হয়েছে তা থেকে আমাদের রক্ষা নেই। এই অবস্থায় আমরা ডিভিসির সমস্ত শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছে আবেদন রাখি যে, আমাদের উপর যে ভাবে নিপীড়ন চলছে তা থেকে বাঁচতে হলে জোটবদ্ধ হতে হবে। সংস্থার ৯ টি সংগঠনের মধ্যে ৮ টি সংগঠন সহমত হয়ে সংযুক্ত মোর্চা গঠিত হয়। কিন্তু তৃণমূল সংগঠন আমাদের ছাতার তলায় না এসে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হাত মেলায়। ওদের ছাড়াই গত ৩ বছর ধরে সংযুক্ত মোর্চা শ্রমিকদের দাবি আদায়ে আন্দোলন করছে। কিন্তু যেহেতু রাজ্যে ওই সংগঠনের দল ক্ষমতায় তাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করতে সক্ষম হয় তারা।

স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন নেতা রণজিত মন্ডল বলেন, ২০২০  সালে নির্বাচন হওয়া কথা থাকলেও স্বীকৃতি হারানোর ভয়ে কামগার সংঘ কর্তৃপক্ষকে নির্বাচন করতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত আমাদের সংযুক্ত মোর্চা অনশনের ডাক দিলে কর্তৃপক্ষ নির্বাচন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। এই মোর্চার সাথে মজদুর সংঘ যুক্ত থাকলেও নির্বাচনে তারা আলাদাভাবে লড়ছে। আমরা ঠিক করেছি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে একক শ্রমিক সংগঠনের মান্যতা পেতে হলে যৌথভাবে লড়াই করা ছাড়া উপায় নেই। তাই মোর্চার হয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে ছাতা চিহ্নে ভোট যুদ্ধে নেমেছি। আমরা নিশ্চিত ৭৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে আমরা জয়লাভ করবো। এই মোর্চাকে সমর্থন জানিয়েছে ভূমিহারা কর্মীদের সংগঠনও। এই সংগঠনের নেতা দেবাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা কোনো শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করি না। কিন্তু ডিভিসিতে যেসব ভূমিহারাদের নিয়োগ করা হয়েছে তাদের নানাভাবে বঞ্চিত হতে দেখে আমরা সংগঠন করেছি। আগামী নির্বাচনে আমরা সংযুক্ত মোর্চার শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতীক ছাতা চিহ্নে ভোট দেওয়ার জন্য সকলকে আবেদন জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *