সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৮ অক্টোবর: পুরুলিয়ার পুঞ্চা থানার নির্ভয়পুর গ্রামে বুনো কন্দ খাওয়ার পর এক শবর পরিবারের প্রবীণ সদস্যের মৃত্যু হল। ৬২ বছর বয়সী ওই প্রবীণ সদস্যের নাম জলধর শবর। একই কারণে অসুস্থ রয়েছেন ওই পরিবারের ৪ সদস্য।
গতকাল বুধবার বিকেলে পাশের জঙ্গল থেকে মাটি খুঁড়ে আলুর মতো ওই কন্দ তুলে নিয়ে আসে ওই পরিবারের সদস্যরা। সেই কন্দ আজ সকালে সেদ্ধ করে ভাতের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা খান। খাওয়ার পরই তাঁরা সবাই অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। তারপরই জলধর সহ অন্যান্য সদস্যদের প্রথমে পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই জলধর শবরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। বাকিদের উন্নত চিকিৎসার জন্যে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

মৃত জলধরের দেহ ময়নাতদন্তের জন্যে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো সদর হাসপাতাল ও গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছে রূপধানী শবর, নন্দ শবর, লিলু শবর ও ৩ বছরের শিশু নয়ন শবর।
ঘটনার খবর পেয়ে ওই গ্রামে যান ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আধিকারিক, স্থানীয় বিডিও ও মহকুমা পুলিশ আধিকারিক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেন তাঁরা। আর কেউ এই বিষাক্ত কন্দ খেয়ে অসুস্থ হয়েছে কিনা তার খোঁজ নিচ্ছে ওই দলটি।

এই জনজাতির মানুষরা সাধারণত বিভিন্ন জঙ্গলের ফল, কন্দ, শেকড়বাকড় খেয়েই জীবনধারণ করে থাকে। পশ্চিমবঙ্গ খেড়িয়া শবর কল্যাণ সমিতির ডিরেক্টর প্রশান্ত রক্ষিত বলেন, এই সময় এই বুনোকন্দ যার স্থানীয় নাম বাওলা খেয়ে থাকে শবররা। এই কন্দের পুষ্টিগুণ খুব বেশি। শুধু এই কন্দ খেয়ে মৃত্যু বা অসুস্থ হওয়ার কারণ হতে পারে না। ওই খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত কিছু মিশে থাকতে পারে হয়তো।

