তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় বৃদ্ধা মা ও স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ গোপালনগরে

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৫ জুন: তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার আকাইপুর অঞ্চলের হুদা আইটপাড়া গ্রামে বাসিন্দা পলাশ রায়। সম্প্রতি এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক পরচিতি বাড়ছিল। সে কারণেই রাতের অন্ধকারে পলাশবাবুর বাড়ি ঢুকে বাঁশ ও রড দিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠল ওই এলাকার তৃণমূল প্রার্থীর স্বামী সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় পলাশবাবু ও তার বৃদ্ধা মা চিকিৎসাধীন। রডের আঘাতে তাঁর ডান হাতে গভীর ক্ষত হয়েছে। বুকে পিঠে এবং মাথাতেও আঘাত রয়েছে।

যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ মানতে চাননি দলের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস। তাঁর দাবি, “এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রের খবর, পলাশবাবু এতো দিন ধরে এই এলাকার তৃণমূলের বুথ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দল তাঁকে টিকিটও দিতে চেয়েছিল। এলাকার কিছু তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁকে কোনো কাজ করতে দিচ্ছিল না। এছাড়া রাজ্য সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে, সম্প্রতি তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বিজেপিতে ঢোকার পর তিনি দুটি গ্রামের মানুষ নিয়ে একের পর এক মিছিল মিটিং করছেন। পলাশবাবুর অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থীর স্বামী অমিত বিশ্বাস, অসীম বিশ্বাস ও দিলীপ রায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এদিন রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ আমার বাড়িতে আসেন। তাদের সঙ্গে প্রার্থীরাও ছিল৷ প্রথমে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ঘর থেকে টেনে বার করে আমাকে মারধর করে৷ বৃদ্ধা মা বাধা দিতে গেলে তাকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। পরে তার স্ত্রীকেও মারধর করে। পলাশবাবুর দাবি আগে তৃণমূল করতাম, বর্তমানে বিজেপিতে এসেছি সেই রাগে আমাকে মারধর করল৷

খবর পেয়ে ওই গ্রামে যান বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রে বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া। আহত পলাশের পরিারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেন, রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের হার্মদরা বিজেপিকে ভয় পেয়েছে। গ্রামে গ্রামে সন্ত্রাস চালিয়ে বিজেপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। এর জবাব ভোট বাক্সে মানুষ দেবে।

যদিও তৃণমূলের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই ব্যক্তি তৃণমূলের কেউ ছিল না। ওরা বিজেপির লোক, বিজেপিরাই মেরেছে। এই ঘটনায় হাসপাতালে কেউ ভর্তি হয়নি। কোনো প্রমাণ নেই। পুলিশকে তদন্ত করতে বলেছি। পুলিশ তদন্ত করলে সত্য বেরিয়ে আসবে। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনো যোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *