অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১৪ জুন: প্রায় এক মাস পরে আশি বছরের এক বৃদ্ধ নিজের পরিবারকে ফিরে পেলেন। সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা ফেসবুক গ্রুপ “আমারকার ভাষা আমারকার গর্বের” সদস্যদের উদ্যেগে নিজের পরিবারকে ফিরে পেলেন ওই বৃদ্ধ। নিজের গ্রামে ফিরে যাওয়ার পর ফেসবুক গ্রুপের সদস্যদের ধন্যবান এবং আশির্বাদ করছেন ওই বৃদ্ধ এবং তার পরিবারের সদস্যরা। বৃদ্ধকে বাড়ি ফেরাতে পেরে খুশি গ্রুপের সদস্যরাও।
প্রসঙ্গত, লালগড়ের নেতাইয়ের সয়েরসাই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শুধাংশু জানাকে গত ১১ তারিখ আমারকার ভাষা আমারকার গর্ব সুবর্ণ রৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতি এই ফেসবুক গ্রুপের সদস্য শিবপানি গ্রাহী, অনিমেশ সিংহ ও গ্রুপের সদস্যরা উদ্যোগ নিয়ে লালগড় থানার সাথে যোগাযোগ করে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। লালগড় থানা খবর পেয়ে গোপীবল্লভপুর থানার সাথে যোগাযোগ করে
ওই দিন রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ বৃদ্ধকে গাড়ি করে ফিরে নিয়ে যায় তার পরিজনেরা। জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহে গোপীবল্লভপুরে গোবীন্দজিউর মান্দির চত্বরে এক বৃদ্ধকে অসহায়ভাবে থাকতে দেখতে পান ওই ফেসবুক গ্রুপের সদস্য সুমন বেরা। এরপর সে গ্রুপ অ্যাডমিন বিশ্বজিৎ পালকে বিষয়টি জানান। বিশ্বজিত বাবু বলেন, সুমন আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে ও সাথে সাথে ওনার কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছে। গত ১০ জুন গ্রুপের পক্ষ থেকে গোপীবল্লভপুরে একটি কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন বেশ কিছু সদস্য। সেই সময় বিষয়টি গ্রুপের সদস্য শিব প্রানিগ্রাহী, অনিমেষ সিংহ ও অন্যান্য সদস্যদের জানাই।তারাও সাথে সাথে মানুষটি যাতে বাড়ি ফিরতে পারেন তার জন্য চেষ্টা করে গিয়েছিল।
বৃদ্ধ নিজের নাম শুধাংশু জানা বলেছিলেন। বাড়ি লালগড় থানার নেতাই গ্রামের সয়েরসাই গ্রামে বলে জানিয়েছিলেন। এরপর গ্রুপের সদস্য শিব পানিগ্রাহী লালগড় থানার এসআই সৌরভ ঘোষকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানান এবং ওই দিন রাতেই লালগড় থানার উদ্যোগে ওই বৃদ্ধের পরিবারের সাথে যোগযোগ করে গাড়ি পাঠিয়ে শুধাংশু বাবুকে বাড়ি নিয়ে যান। লালগড় থানা ও গোপীবল্লভপুর থানার পুলিশকে ধন্যবাদ জানান তারা।
শুধাংশু জানার বৌমা আল্পনা জানা জানিয়েছেন,
শুধাংশুবাবু গত ১৫ মে প্রাতঃ ভ্রমণে বেড়িয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। আগেও তিনি মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে চলে যেতেন। তখন তাকে পারিবারের লোকজন খুঁজে নিয়ে আসত। শুধাংশু বাবুর ছেলে ২০০৫ সালে মারা গিয়েছে। শুধাংশুবাবুর স্ত্রী বহু বছর আগেই মারা গিয়েছে।বাড়িত রয়েছে বৌমা এবং এক নাতি ও এক নাতনি। গত ১৫ মে বাড়ি থেকে বের হয়ে কোনও ভাবে নয়াগ্রাম ব্লকে পৌছে গিয়েছিলেন। সেখানে বালিগেড়িয়ার একটি আশ্রমে ছিলেন। শুধাংশুবাবু বাড়ি ফিরে গিয়ে বলেন, “আশ্রমে ছিলাম। কিন্তু সেখানে থাকতে পারিনি। তাই গোপীবল্লভপুরের রাধা গোবীন্দ জিউর মান্দিরে চলে এসেছিলাম। ওই ছেলেরা আমাকে ভালভাবে রেখেছিল।খাবার দিয়েছিল।” শুধাংশু বাবুর বৌমা আল্পনা জানা আরও বলেন, “ওনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার শ্বশুরমাশাইকে খুব ভাল ভাবে রেখেছিল ওখানের ছেলেরা।তাই আমরা ফিরে পেলাম।পুলিশকেও ধন্যবাদ।

