অমরাবতী খুনেও ভারত বিরোধী আন্তর্জাতিক চক্রান্তের সম্ভাবনা, সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়াতে একাধিক খুনের পরিকল্পনা ছিল, ধারণা গোয়েন্দাদের

আমাদের ভারত, ৯ জুলাই: উদয়পুরের মত মহারাষ্ট্রের অমরাবতী হত্যাকাণ্ডেও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে মনে করছেন এনআইএর গোয়েন্দারা। দেশে সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়াতে পরিকল্পিতভাবেই এই খুন করা হয়েছিল। অশান্তি ছড়াতে ধর্মের দোহাই দিয়ে আরও একাধিক খুনের পরিকল্পনা ছিল ধৃতদের বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

২১ জুন মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে পেশায় ফার্মাসিস্ট উমেশ কোলহেকে হত্যা করে একদল দুষ্কৃতী। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাকে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে খুন বলে স্থানীয় পুলিশ ব্যাখ্যা দিলে প্রায় এক সপ্তাহ পর উদয়পুর হত্যাকাণ্ডের পরেই এই মামলা এনআইএ’র হাতে যায়।

গোয়েন্দাদের মধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে, উমেশের হত্যাকান্ড একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল। নূপুর শর্মার বক্তব্যের সমর্থনকারীকে হত্যার মাধ্যমে একদিকে ধর্মের অবমাননার প্রতিশোধ ও অন্যদিকে এই ধরনের আরও বেশ কিছু হত্যা ধারাবাহিকভাবে করার পরিকল্পনা ছিল ধৃতদের। দেশে সাম্প্রদায়িক অশান্তি শুরু করাই ছিল এদের লক্ষ্য।

উদয়পুর কাণ্ডেও ধৃতদের লক্ষ্য অনেকাংশে একই ছিল। তাই এক্ষেত্রে দুটি খুনের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, উদয়পুর কাণ্ডে জড়িতরা পাকিস্তানের দাওয়াত ই ইসলাম নামে সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। দাওয়াত ই ইসলামী একটি ধর্মীয় সংগঠন যারা ধর্মীয় প্রচারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এই সংগঠনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় জোর করে ধর্ম পরিবর্তন ও সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

উদয়পুর-কান্ডের হত্যাকারীদের সঙ্গে ওই সংগঠনের সম্পর্ক পাওয়া গেল অমরাবতী খুনে এখনও সেভাবে কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি। তবে গোয়েন্দাদের বিশ্বাস যেভাবে ধৃতরা হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে, তাতে দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টাই তারা করছিল। আর তা থেকেই মনে করা হচ্ছে এদের পেছনে ভারতবিরোধী আন্তর্জাতিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। ওই ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ১৩টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। ওই তল্লাশিতে বিভিন্ন প্ররোচনামূলক কাগজ ও সমাজের মধ্যে বিশেষ ধর্মের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক টেমপ্লেট পাওয়া গিয়েছে।

এনআইএ সূত্রে খবর, ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, মেমোরি কার্ড, জিপিএস লোকেশন ট্র্যাকারের মত যন্ত্র উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। উদয়পুর আমরাবতীতে যেভাবে একজনকে বেছে নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে তাতে আইএস’ এর মতাদর্শের প্রতিফলন হয়েছে বলে মত গোয়েন্দাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *