এলওসি’তে পাক হানায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া মন্দিরের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হল ভূস্বর্গে, ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করলেন অমিত শাহ

আমাদের ভারত, ২২ মার্চ: চৈত্র নবরাত্রিতে নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলওসিতে পুনঃ প্রতিষ্ঠা হল দেবী সারদার পীঠ। মন্দিরের পুনঃ প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কুপওয়ারা জেলার এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হল বুধবার। স্বাধীনতার পরে প্রথমবার নিয়ন্ত্রণ রেখার এত কাছে হিন্দু মন্দির তৈরি করা হলো।

খুব সম্প্রতি এই মন্দিরের পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এরপরই দেবী মূর্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চৈত্র নবরাত্রিকেই বেছে নিয়েছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ। উপত্যকায় প্রতিষ্ঠা হওয়ার দেবী সারদার এই মূর্তি তৈরি হয়েছে কর্নাটকে। সেখান থেকে মূর্তিটিকে ভূস্বর্গে নিয়ে আসা হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হল কাশ্মীরি হিন্দু নববর্ষ। এই নববর্ষের পোশাকি নাম নভরেহ। সেই কারণেই এই দিনটিকে নব নির্মিত মন্দিরে মূর্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বেছে নেন স্থানীয় হিন্দুরা। দেবী সারদা দেবী স্বরস্বতীর অপর নাম।

আজ বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৩৭০ ধারা ওঠার পর নিজের আগের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ফিরে পাচ্ছে জম্মু-কাশ্মীর। তিনি বলেন, এই মন্দিরের উদ্বোধন একটি নতুন ভোরের সূচনা করল। এটা পুরাতন সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনার সূচনা। নতুন বছর থেকে মাতা সারদার মন্দির ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল। সারা দেশের ভক্তরা আসবেন মা সারদার আশীর্বাদ নিতে। আজ তিনি সশরীরে সেখানে উপস্থিত না থাকতে পারলেও আশ্বাস দিয়েছেন, খুব তাড়াতাড়ি তিনি জম্মু-কাশ্মীরের এই মন্দিরে মাতার দর্শন করতে যাবেন। তিনি বলেন, এরপর যখনই তিনি নিজে জম্মু-কাশ্মীরে যাবেন সারদা দেবীর মন্দির থেকেই তার যাত্রা শুরু করবেন।

তিনি বলেন, মোদীর উদ্যোগে ৩৭০ ধারা সরানোর পর কাশ্মীরে শান্তি স্থাপন হয়েছে এবং জম্মু-কাশ্মীর তার নিজের পুরাতন সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করছে। তিনি বলেছেন এই স্বর্গরাজ্যে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একাধিক ধর্মীয় স্থানকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কেন্দ্র সরকার বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ করেছে। এই রাজ্যের ৩৫টি ধর্মীয় স্থান পুনর্জ্জীবনের জন্য ৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে শিল্পে বিনিয়োগ জন্য তিনি সেখানকার গভর্নরকে মনোজ সিনহা কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

স্বাধীনতার আগে দেবী সারদার এই মন্দির ছিল। ওই সময় কিশান গঙ্গা নদীর তীরে একটি গুরুদ্বার সংলগ্ন এলাকায় দেবীর মন্দিরটি ছিল। কিন্তু ৪৭-এ কাশ্মীরে আক্রমণ করে পাক হানাদাররা। হামলাকারীদের হাতে ধ্বংস হয়ে যায় দেবীর মন্দির। ঘটনা কয়েক বছর পর থেকেই এলাকায় দাবি ওঠে দেবী মন্দির তৈরির।

ঐতিহাসিকদের দাবি, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের এই সারদা মন্দিরের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ভারত উপমহাদেশ সহ মধ্য এশিয়া থেকে পুণ্যার্থীরা এখানে আসতেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন ভবিষ্যতে এই এলাকা তীর্থক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠবে, যার ফলে বাড়বে পর্যটকদের ভিড়। বাড়বে রোজগার।

গত কয়েক মাসে জম্মু-কাশ্মীরে বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিদের টার্গেট হয়েছেন কাশ্মীরি পন্ডিতরা। সেই পরিস্থিতিতে এই হিন্দু মন্দিরের প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা থেকে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *