পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১০ এপ্রিল: পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় শুক্রবার এক বিশাল জনসভায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি প্রার্থী শুভাশিস ওমের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় আকালপৌষ স্কুল মাঠ কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মহিলা ও যুবক- যুবতীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
সভামঞ্চে উঠে বাংলার মাটিকে প্রণাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন অমিত শাহ। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর- সহ বাংলার মহান ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করেন এবং স্থানীয় দেব- দেবীদের নাম উল্লেখ করে আবেগঘন ভাষণে জনতাকে আকৃষ্ট করেন।
★শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ—
রাজ্যের শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ করে শাহ বলেন, বাংলায় “নির্যাতন, কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজ” চলছে। তাঁর অভিযোগ, সর্বস্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ তার শিকার। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে “ভ্রষ্টাচার কোম্পানি” বলে কটাক্ষ করেন।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও তিনি সরব হন। তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে “অনুপ্রবেশ-মুক্ত বাংলা” গড়ে তোলা হবে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
★ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—
সভায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন—
* ৫ মে’র পর মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে
* বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে
* “বাংলার ছেলেদের কাজ বাংলাতেই” নিশ্চিত করা হবে
* কংসাবতী নদীর উপর সেতু নির্মাণ, রাস্তা উন্নয়ন ও ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে
* ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যে শিল্পক্ষেত্রে ভাটা পড়েছে এবং “৬৫০০ কোম্পানি বাংলা ছেড়ে চলে গেছে”।
★ কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও নীতি—
অমিত শাহ বলেন, বিজেপি সরকার এলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি সঠিকভাবে কার্যকর করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন—
* আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে প্রতি পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য সুবিধা,
* গরিবদের বিনামূল্যে শিক্ষা
* মহিলাদের জন্য ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ
* সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়ন
* ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
★রাজনৈতিক বার্তা—
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করতে চান?” পাশাপাশি তিনি রাজ্যের বিপুল ঋণের বোঝার কথাও তুলে ধরেন।
সবশেষে তিনি বলেন, “৫ মে’র পর বাংলায় পরিবর্তন আসবে,” এবং বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান।
এই জনসভা ঘিরে ডেবরায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপ্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

