আমাদের ভারত, ৯ মে: রবীন্দ্রজয়ন্তীতে কলকাতায় এসে সায়েন্স সিটি অডিটেরিয়ামে বক্তব্যে রাখার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে তৎকালীন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের একাধিক সমীকরণের ছোট্ট ছোট্ট ইতিহাস তুলে ধরেন। সেই তালিকায় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস, গান্ধীজী, জগদীশ চন্দ্র বসু, আলবার্ট আইনস্টাইনের নাম ছিল। রবি ঠাকুরের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কথা বক্তৃতায় উল্লেখ করেন অমিত শাহ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গুরুদেব সব সময় বলতেন বিচারের মতভেদ হলেও মানুষে মানুষে বিভেদ যেন না হয়। কবিগুরু আর গান্ধীজীর সম্পর্ক ছিল ঠিক এমনটাই। মহাত্মা গান্ধীর একাধিক সিদ্ধান্তের সাথে একমত ছিলেন না কবিগুরু, কিন্তু তাদের বিচার ভিন্ন হলেও লক্ষ্য ছিল এক। এই দুই মহামানব একাধিক চমৎকার কাজ করেছেন। সমগ্র বিশ্বের সামনে কবিগুরু গান্ধীজীকে মহাত্মা বলে সম্বোধন করতেন এবং গান্ধীজী তাকে গুরুদেব বলে ডাকতেন।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের প্রসঙ্গও তুলে আনেন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৩৯ সালে যখন কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করতে হয় সুভাষচন্দ্র বোসকে, তখন তিনি শান্তিনিকেতনে কবিগুরুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। এই সিদ্ধান্তের সাথে একদমই মত ছিল না গুরুদেবের। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টাও করেছিলেন রবি ঠাকুর।
আচার্য জগদীশচন্দ্র বোসের জীবনের হতাশার সময় আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছিলেন কবিগুরু। শাহ বলেন, আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস হতাশ ছিলেন, তার বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন গুলি যখন ঠিকঠাক কদর পাচ্ছিল না। তখন তিনি একটি চিঠি লিখে কবিগুরুকে নিজের হতাশার কথা জানিয়েছিলেন। সে কথা জানার পর ত্রিপুরার মহারাজকে চিঠি লিখে সাহায্যের কথা বলেছিলেন কবিগুরু। আর রবি ঠাকুরের এই প্রচেষ্টা জগদীশচন্দ্র বোসকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছিল।
শুধু দেশের বিখ্যাত ব্যক্তিত্বই নয় বিদেশের বৈজ্ঞানিকদের অপমানেও প্রতিবাদে সরব হয়েছেন গুরুদেব বলে জানান অমিত শাহ। ১৯৩২ সালে, কবিগুরু যখন জানতে পারেন আলবার্ট আইনস্টাইনকে জার্মানি থেকে যেতে বাধ্য করা হয়েছে, অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ের এক পত্রিকায় জার্মানির রাজনৈতিক পরিস্থিতি সমালোচনা করেন এবং আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে হওয়া ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
এভাবেই নিজের বক্তব্যে আজ রবি ঠাকুরের অবাধ আনাগোনা করিয়েছেন অমিত শাহ। রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে গুরুদেবের অবদানের টুকরো টুকরো ইতিহাস তুলে ধরেন অমিত শাহ।

