বিজেপি যুবনেতার রহস্য মৃত্যু ঘিরে তুলকালাম কাশীপুরে, যাচ্ছেন অমিত শাহ

আমাদের ভারত, ৬ মে: রাজ্য সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতায় পা রাখার আগেই বিজেপি যুব নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে কলকাতার কাশীপুরে। স্বভাবতই ক্ষোভে ফুঁসছে বিজেপি। উত্তপ্ত পরিস্থিতি কাশীপুরে। পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এই ঘটনার কারণে অমিত শাহের কর্মসূচিতেও বড় বদল এসেছে। জানা গেছে নিহত বিজেপি যুব নেতা অর্জুন চৌরাসিয়ার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন অমিত শাহ। কলকাতায় নেমে বিমানবন্দর থেকে সোজা যাবেন কাশীপুরে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

এই ঘটনায় কাশীপুরে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মৃতদেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল বিজেপি নেতা কর্মী ও মৃত বিজেপি নেতার পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি অমিত শাহ না আসা পর্যন্ত মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য তারা নিয়ে যেতে দেবেন না। কিন্তু পুলিশ দেহ বার করার চেষ্টা চালায়। ঘটনাস্থলে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও বিজেপি কর্মীর মধ্যে হাতাহাতি বেধে যায়। বচসা হয় পুলিশের সাথে। প্রবল বাধার মুখে পরে উত্তেজিত জনতার উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। শেষ খবর অনুযায়ী মৃতদেহ বের করে নিয়ে যায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা আছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসার আগে মৃতদেহ কোনভাবে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যেতে দেবেন না তারা বলে দাবি করেছিল আন্দোলনকারীরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে স্বাগত জানাতে এই অর্জুন নেতৃত্বে কাশীপুর থেকে বাইক মিছিল করার কথা ছিল বিজেপির যুব মোর্চার। সেটা বাতিলের নির্দেশ দেন অমিত শাহ। বিজেপি নেতা কল্যাণ চৌবে সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে রয়েছেন মাইকিং করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখনই বিমানবন্দরে নামেন তিনি আসবেন। কিছু প্রটোকল রয়েছে পুলিশ এগুলি রক্ষা করবে কিন্তু পরিবারের সম্মতি ছাড়া দেহ নিয়ে যাওয়া যাবে না। আমরা পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করছি তবে দেহ এখন নিয়ে যাওয়া যাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেহ বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। আর জি করে ময়নাতদন্ত হবার কথা। কিন্তু মৃতদেহ সংরক্ষণের দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি ও মৃতের পরিবার।

শুক্রবার সকালে রেল আবাসনের পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে ভোর বেলায় অর্জুনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তকারীরা একটা বিষয়ের উপর জোর দিচ্ছেন, অর্জুনের পায়ে একেবারে পালিশ করা বুট জুতো ছিল। জামা ইন করে পড়া ছিল। দৃশ্যত তাকে দেখে বিধ্বস্ত লাগছে না। এমনকি তার পাও মাটির সঙ্গে লেগেছিল।

ভোট পরবর্তী সময়ে অর্জুন বেশকিছুদিন বাড়ি ছাড়া ছিলেন। পরে হাইকোর্টের নির্দেশ বের হলে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। এলাকায় বিজেপি যুব নেতা হিসেবে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *