আমাদের ভারত, ৭ এপ্রিল: সিঙ্গুরে কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলন করেই ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ক্ষমতায় আসার ১০ বছর পরেও সেখানে কোনও উন্নয়নও করেননি তিনি। আজ সিঙ্গুরে ভোট প্রচারে এসে এমনটাই অভিযোগ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরে কি ন্যানো কারখানার ফিরবে? তাতে অমিত শাহের সাফ জবাব সেটা কিছুটা সংকীর্ণ ভাবনা। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক কিছুই আসছে। তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, এত কিছু এলেও এখানে শুধু ন্যানোরই প্রচার হয়।
একসময় সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের অন্যতম নেতা রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য যিনি তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু তৃণমূল এবার তাঁকে প্রার্থী করেনি। এরপরই তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। সিঙ্গুরে তাঁকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। আজ সেই মাষ্টার মশাইয়ের হয়েই রোড শো করতে এসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন ও বেকারদের কর্মসংস্থান নিয়ে বিজেপির নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর কথায় বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে পশ্চিমবঙ্গের ভারী, মাঝারি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রুপরেখা তৈরীর কথা বলা হয়েছে। আর তার ভিত্তিতেই কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে বলেও তিনি জানান।
সিঙ্গুর সহ গোটা রাজ্যে শিল্পায়ন হয়নি, এই অভিযোগ তুলে শাহ বলেন, সিঙ্গুরে জমি আন্দোলন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এলেও গত ১০ বছরে এখানে কিছুই করেনি। সেই জন্যে পরিবর্তন হবেই। শাহের দাবি, দুনিয়া থেমে থাকে না। জঙ্গলমহল থেকে সুন্দরবন, উত্তরবঙ্গ থেকে সিঙ্গুর সর্বত্রই এখন পরিবর্তনের হাওয়া।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নে বিজেপি শুধু ন্যানো কেন্দ্রিক ভাবনাকেই তুলে ধরছে না। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বৃহত্তর ভাবনা রয়েছে বিজেপির।
তৃণমূল নেত্রীর বারবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করা এবং পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পরিচালনা করার অভিযোগ তুলেছেন। এর পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে অমিত শাহের প্রতিক্রিয়া, “এর থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে নেত্রী হারছেন।”
অন্যদিকে সিঙ্গুর সহ গোটা রাজ্যে শিল্পায়ন না হওয়ার যে অভিযোগ অমিত শাহ তুলেছেন সেই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মন্ত্রী তথা নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ভারী শিল্প গড়তে হলে কেন্দ্র সরকারের সাহায্য প্রয়োজন। শিল্পায়নের জন্য কেন্দ্রের তরফে পশ্চিমবঙ্গ কখনোই কোনো সাহায্য পায়নি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২০০৬ সালে সিঙ্গুরের টাটা গোষ্ঠী ন্যানো গাড়ি কারখানা করার জন্য সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণের কথা ঘোষণা করেছিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলনের জন্য ২০০৮ অক্টোবরের সিঙ্গুর থেকে ন্যানো কারখানার সরিয়ে নিয়ে চলে যায় টাটা। গুজরাটের সানন্দে ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরি হয়। সেই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগেই সে রাজ্যে ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরি হয়েছিল। এদিকে ২০১১-য় রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সিঙ্গুরে কৃষকদের জমির ফেরাতে বিধানসভায় আইন পাশ করেন মমতা। জমি দখল ঘিরে টাটার সঙ্গে আইনি লড়াই শুরু হয় সরকারের। শেষ পর্যন্ত ২০১৬-য় সুপ্রিমকোর্টে বাম সরকারের জমি অধিগ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করে কৃষকদের জমি ফেরানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

