শৌর্যাঞ্জলিতে বাঙালি-অস্মিতা, সাক্ষী জাতীয় গ্রন্থাগার

ড. কল্যাণ চক্রবর্তী
আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৯ ফেব্রুয়ারি:
কেন্দ্রীয় সরকার বাঙালি বিরোধী নয়, বারবার তার প্রমাণ রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও গত ২৩ জানুয়ারি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও জাতীয় গ্রন্থাগারে বিশেষ বক্তব্য পরিবেশন করে গিয়েছিলেন। তখন উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক মন্ত্রীও। এবারেও সাক্ষী থাকল কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগার। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের আয়োজনে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার আত্মবলিদানকারী বিপ্লবীদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে কলকাতার আলিপুরে এলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

এদিন অমিত শাহ স্বাধীনতার সংগ্রামকে স্মরণে রেখে সাইকেল আরোহীদের একটি শুভযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। দেশবাসীকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনগুলি মনে করিয়ে দিয়ে দেশরক্ষার এক বার্তা দিয়ে গেল পুরো অনুষ্ঠানে। সেই সঙ্গে উদ্বোধন করেন ‘বিপ্লবী বাংলা’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীরও। প্রদর্শনীতে ছিল স্বাধীনতার অমর বিপ্লবীদের সচিত্র জীবনপঞ্জির সমাহার। ছিল নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মের ১২৫ বছরের বিশেষ শ্রদ্ধারূপের প্রকাশ। বাংলার ভূমিপুত্রদের মধ্যে থেকে জাতীয়তাবাদী আইকনগুলির একটি পূর্ণ তালিকা প্রকাশিত হয়। তাতে রয়েছে বঙ্কিমচন্দ্র, শ্রীরামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ, সিস্টার নিবেদিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাস্টারদা, শ্রীঅরবিন্দ, রাসবিহারী বসু, দেশবন্ধু, প্রীতিলতা, নেতাজী, নজরুল ইসলাম ও শ্যামাপ্রসাদের মতো ব্যক্তিত্ব। প্রদর্শনী মূল থিম জাতীয়তাবাদের প্রতীক বাংলার মাটি থেকেই উদ্ভূত।

আমিত শাহ তাঁর বক্তৃতায় বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন নেতাজীকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিগত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় সরকার নেতাজীকে অবদানকে যোগ্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। আজকের অনুষ্ঠানে সমগ্র বাঙালির কাছে আবারও বার্তা পৌঁছাল, কেন্দ্রীয় সরকার আদৌ বাঙালি বিদ্বেষী নয়। বাংলার কৃতি, কৃষ্টি ও মনীষার প্রতি সমগ্র ভারতবর্ষে আগ্রহ ও সচেতনতা রয়েছে।

এই অনুষ্ঠানে কলকাতার বহু বিদগ্ধ পণ্ডিত ও জাতীয়তাবাদী মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। অনুষ্ঠান মঞ্চে স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর একটি নৃত্যনাট্য পরিবেশিত হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই পরিবেশনায় বিশেষ মুগ্ধ হয়েছেন, এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর বক্তব্যে। জাতীয় গ্রন্থাগার এখন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উল্লেখযোগ্য প্রদর্শন ক্ষেত্র হয়ে উঠল। আগামী দিনে সরকারি ভবনগুলির সৌকর্য ও পরিবেশনা দেশবাসীর কাছে প্রেরণা হয়ে থাকবে, এমনটাই আশা করছেন, উপস্থিত বহু বিদ্যাবিদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *