আমাদের ভারত, ২৩ মার্চ: মঙ্গলবার গোসাবা থেকে আরো একবার রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দ্যেশ্যে আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কাটমানি,তোলাবাজ, অনুন্নয়ন দুর্নীতি সহ সব ইস্যুতে মমতা সরকারের তুলোধোনা করেন অমিত শাহ। তার নিশানা থেকে বাদ যায়নি ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চাইছেন, আর মোদী আপনাদের উন্নয়ন চাইছেন। একই সঙ্গে তার অভিযোগ মোদীর পাঠানো আমফান ত্রাণের টাকা লুঠ করেছে ভাইপো আ্যান্ড কোম্পানি।
গতবছর প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রথম দফার ভোটের দিন তিনেক আগে সেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা গোসাবায় যা কিনা তৃণমূলের খাস তালুক হিসেবে পরিচিত সেখানে দাঁড়িয়ে জনসভা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমফান দুর্নীতির ইস্যুতে অমিত শাহ তুলে আনলেন ভাইপো প্রসঙ্গ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মোদীজি অনেক টাকা পাঠাচ্ছেন। মোদীজির ১০ হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছেন। কোন টাকা পেয়েছেন? ভাইপো এন্ড কোম্পানি সেই টাকা খেয়ে নিয়েছে।” তিনি আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই টাকা যে বা যারা চুরি করেছে সিট গঠন করে তাদের জেলে ঢোকানো হবে। তার অভিযোগ বঙ্গভূমি এখন ঘুষ ও তোলাবাজির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
যদিও এর পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে তৃণমূলের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, সারা বাংলা জানে নরেন্দ্র মোদী এসে ১ হাজার কোটি টাকা পাঠিয়ে ছিল। অথচ ৬ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকার নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে শুধু দুর্নীতির ইস্যু নয় গোসাবা সভা থেকে অনুন্নয়নের ইস্যুতেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চান মমতা। তার সেই দিকেই নজর। আর মোদীর নজর আপনাদের উন্নয়নে।”
এছাড়াও গোসাবার সভা থেকে এদিন বড় ঘোষণা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন ক্ষমতায় এলে, সুন্দরবনকে আলাদা জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। সুন্দরবনে এইমস তৈরি হবে। যার ফলে চিকিৎসার জন্য কাউকে কলকাতায় ছুটতে হবে না।
একইসঙ্গে গুন্ডারাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা নির্ভয় ভোট দেবেন কোন গুন্ডারাজ বরদাস্ত করা হবে না।কেউ বাধা দিতে পারবে না। আপনাদের ভোট নির্ভয়ে ভোট দেবেন। তিনি আরও, বলেন বিজেপির সরকার তৈরি করুন মহিলাদের ৩৩% সংরক্ষণ দেওয়া হবে। মহিলাদের কেজি থেকে পিজি পর্যন্ত বিনা খরচে পড়াশোনার বন্দোবস্ত করা হবে। পরিবহনে মহিলাদের টিকিট লাগবে না।
তিনি বলেন, গোসাবা বিধানসভা কলকাতার কাছাকাছি হলেও এখনো সেভাবে উন্নয়ন হয়নি। এখানে বিশুদ্ধ পানীয় জল পাওয়া যায় না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে দু’বছরের মধ্যে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা হবে। বিভিন্ন এলাকার মধ্যে সংযোগকারী সেতুটি তৈরি হবে।

