আমাদের ভারত, ৩১ মার্চ: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রায় একমাস হতে চলেছে। কিন্তু এর মধ্যে নানা রকম হুংকার দিলেও ইরানকে বাগে আনতে পারেনি ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই এবার ভয়মঙ্কর ছক কষেছে আমেরিকা। ইরানে পরমাণু হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি হোয়াইট হাউস। এমনি বিস্ফোরক দাবি করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রাক্তন এক কূটনৈতিক। আর এই দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
তেহেরানের ওপর সমঝোতার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে আমেরিকা। তা না হলে চরম পরিণতি হবে, এমনই হুঙ্কার শোনা গিয়েছিল ট্রাম্পের গলায়। তিনি জানিয়েছিলেন, হরমুজ খোলা না হলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলের খনি ও খারগো দ্বীপ গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
আর এসবের মাঝে আবারও আরো এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উত্তাল বিশ্ব রাজনীতি। ভিতরে ভিতরে চলছে ইরানে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি। এমনটাই দাবি করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক কূটনীতিক মহম্মদ সাফা। তিনি দাবি করেছেন, পরমাণু হামলার পর কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে তার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাষ্ট্রসংঘ। এরপরই সাফা রাষ্ট্র সংঘ থেকে পদত্যাগ করেন।
মহম্মদ সাফা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা পেট্রিটিক ভিশন- এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, মানবাধিকার, এবং আন্তর্জাতিক নীতি বিষয়ে কাজ করে। এই সংস্থা রাষ্ট্রপুঞ্জের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিষদের বিশেষ পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করে। ২০১৬ সালে সংস্থাটি মহাম্মদ সাফাকে রাষ্ট্রসঙ্ঘে তাদের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করে। সেই সময় থেকে তিনি কূটনীতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে তার পদত্যাগ এবং তার নেপথ্যের কারণ জনসমক্ষে তুলে ধরেন সাফা। সেই পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে দাবি করেন, জাতিসংঘের কিছু প্রভাবশালী মহল ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার পোস্টে তেহরানের একটি ছবিও শেয়ার করে তিনি বলেন, এটা কোন জনমানবহীন মরুভূমি নয়। এখানে কোটি মানুষের জীবন, পরিবার ও স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। যারা এখানে বোমা ফেলতে চায় তারা অসুস্থ মানসিকতার। মানুষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারছে না। তেহরান শহরের প্রায় এক কোটি মানুষের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওয়াশিংটন, বার্লিন প্যারিস এবং লন্ডনে যদি পারমাণবিক হামলা হয় তাহলে তার পরিস্থিতি কেমন হবে?
নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাফা বলেন, আমি আমার কূটনৈতিক পদ বিসর্জন দিয়েছি এই তথ্য সামনে আনতে, কারণ আমি এই অপরাধের অংশ হতে চাই না। কিংবা নিরব সাক্ষী হয়ে থাকতে চাই না। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইজরায়েলের উপর হামাসের আক্রমণের পর বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘোরার প্রসঙ্গ টেনে সাফা বলেন, ওই ঘটনার পর তিনি ভিন্নমত প্রকাশ করায় তাকে নানা সমালোচনা ও অভিযোগের মুখে পড়তে হয়। তিনি ২০২৩ সালে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তিন বছর তিনি ধৈর্য ধরেছিলেন। সাফার অভিযোগ, রাষ্ট্র সঙ্ঘে তাকে কার্যত একঘরে করে রাখা হয়েছিল। তিনি দাবি করেছেন, তাকে এবং তার পরিবারকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাফার এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘে তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

