Modi, BJP, নারী সংরক্ষণ আইন সংশোধন ২১ শতকের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত, বললেন নরেন্দ্র মোদী

আমাদের ভারত, ১৩ এপ্রিল: বহু প্রতীক্ষিত নারী সংরক্ষণ আইনে বদল আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংশোধনের জন্য তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, দেশ তথা ভারতের সংসদ ইতিহাস গড়ার দিকে এগোচ্ছে। তাঁর কথায়, এই সংশোধনীগুলি নারী শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও উৎসর্গ হিসেবে আনা হয়েছে।

এই পদক্ষেপ ভারতের ভবিষ্যতে সংকল্পগুলি পূরণ করতে সহায়ক হবে। মূলত নারী শক্তির ক্ষমতায়ন এবং দেশের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ আরো সুনিশ্চিত করতে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ দরকার বলে দাবি করেছেন মোদী।

সোমবার নয়া দিল্লিতে নারী শক্তি বন্ধন সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, এই সংশোধন নারী শক্তিকে সম্মান জানানো এবং ভবিষ্যৎ ভারত গড়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মহিলা সংরক্ষণ আইন এমন এক ভারতের সংকল্প, সামাজিক ন্যায় ও কেবল স্লোগান নয়, বরং সংস্কৃতির অঙ্গ। মোদীর কথায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের নারীদের উন্নয়ন হবে। তাঁর মতে, তার সরকারের এই পদক্ষেপের কারণেই লক্ষ লক্ষ মা-বোনেরা আশীর্বাদ পাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন, এখানে কাউকে উপদেশ দিতে নয়, বরং মহিলাদের জাগিয়ে তুলতে এসেছেন।

এই আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে ২০২৯ সালকে লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। ২০২৯- এর মধ্যে এই আইন বাস্তবায়নের ব্যাপারে সর্বসম্মত দাবি উঠেছে, সেই লক্ষ্য মাথায় রেখে ১৬ এপ্রিল থেকে সংসদে বিস্তৃত আলোচনা হবে বলে এদিন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমাদের চেষ্টা থাকবে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন করা। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে সংসদের মর্যাদা আরো বাড়বে।

সমাজে মহিলাদের ভূমিকা নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, দেশের সর্বোচ্চ পদ থেকে অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব, সব ক্ষেত্রে মহিলারা নিজেদের ছাপ রেখেছেন। তাই তিনি মনে করেন, ভারতের মহিলারা যখনই দায়িত্ব পেয়েছেন তারা নিজেদের আলাদা ইতিহাস তৈরি করেছেন।

এই তথ্য তুলে ধরে মোদী বলেন, দেশের স্থানীয় প্রশাসনে বর্তমানে চৌদ্দ লক্ষ্যেরও বেশি মহিলা সক্রিয় ভাবে কাজ করছেন। তাদের অংশগ্রহণ প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। ২১টি রাজ্যে পঞ্চায়েতে মহিলাদের অংশগ্রহণ প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করলে তারা বিস্মিত হয়ে যান। এটা কোন সাধারণ বিষয় নয়, লক্ষ লক্ষ মহিলার সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্ব নেতাদের কাছেও বিস্ময়কর এবং ভারতের গর্বের বিষয়।

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়লে প্রশাসনের সংবিধানশীলতা ও দায়বদ্ধতা বাড়ে। সেই কারণে এই আইন ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *