স্নেহাশীষ মুখার্জী, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২ সেপ্টেম্বর: পুলিশ ডে তে রাজ্য সরকারকে তুষ্ট করতে পুলিশকেই হতে হলো অমানবিক। ইউনেস্কোকে সম্মান জানাতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় আটকে দেওয়া হলো অ্যাম্বুলেন্স। নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ঘটনা।
নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার পুলিশ ডে পালন করল কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ। রাজ্যে কোভিড মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় পুলিশদের ত্যাগের সম্মান জানাতে রাজ্য প্রতিবছর ১লা সেপ্টেম্বর পুলিশ দিবস হিসাবে উদযাপন করবে রাজ্যে, এমনটাই ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই প্রত্যেক বছর ১ সেপ্টেম্বর নানান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করা হয় এই দিনটি। এবছর দ্বিতীয় বর্ষে পা দিল পুলিশ দিবস। সেই উপলক্ষে সারা রাজ্য সহ কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের অন্তর্গত বিভিন্ন থানায় বা ট্রাফিক গার্ডের নানান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি ছিল দুর্গাপুজোর কার্নিভাল।
তাই জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে কৃষ্ণনগরে ইউনেস্কোকে সম্মান জানিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। কৃষ্ণনগরের পুলিস প্যারেড গ্রাউন্ড ময়দান থেকে একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিল শেষ হয় রবীন্দ্রভবনের কাছে। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রিক্তা কুণ্ডু, জেলাশাসক সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিক, নদিয়ার দুই পুলিশ জেলার পুলিস সুপার সহ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা।
শহরের সদর মোড়ের কাছে একটি মঞ্চ বাঁধা হয়। মিছিল করে এসে মঞ্চে বিশেষ অতিথিরা বসে শোভাযাত্রা দেখেন। অন্যদিকে শোভাযাত্রার কারণে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। যার ফলে হয়রানির শিকার করে হতে হয় নিত্যযাত্রীদের।

কৃষ্ণনগর শহর জুড়ে অলিখিত ছুটির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। এদিকে স্কুল, কলেজ অফিস-কাছারিতে ছিল না কোনও ছুটির নির্দেশ। এমন অবস্থায় শহরের প্রাণকেন্দ্র জুড়ে হাজার মানুষের মিছিল। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরে ঢোকার শুরুতেই আটকে দেওয়া হয়েছে রাস্তা। ফলে অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি অফিস যাত্রীদের।
সকালে মিছিল শুর হতেই স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে স্কুল ছুটি করিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। এই রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে বেশকিছু বাচ্চা অসুস্থবোধ করে।
এছাড়াও দেখা যায় কৃষ্ণনগর পৌরসভার কর্মচারী সহ বাকি অফিসের কর্মচারীদের অফিস থেকে বেরিয়ে এসে মিছিলে যোগ দিতে। এতেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করে, দুর্গাপূজো অজুহাত দিয়ে কোনো প্রকার ছুটি ঘোষণা না করে শহরের রাস্তা জুড়ে মিছিল করার মানে কী? এইভাবে মানুষকে হয়রানির মধ্যে ফেলার যুক্তি কী? রাজ্যসরকার যা মনে চাইছে তাই করছে মানুষের সুবিধা-অসুবিধার চিন্তা করছে না।
এদিন রাস্তা জুড়ে ব্যাপক যানজট লক্ষ্য করা গেছে। রাস্তার চারিধারে পুলিশ কর্মীদের মোতায়েন রাখা হয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্সও আটকে রাখা হয়। অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার ছবিও আমাদের ক্যামেরায় ধরা পরে। এর পরই বিরোধীরা গলা চড়াতে শুরু করে।
বিজেপির প্রাক্তন যুব সভাপতি(নদিয়া) সৈকত সরকার বলেন, “কোনও প্রকার ছুটি ঘোষণা না করেই, রাস্তায় পুলিশ নামিয়ে রাস্তা আটকে এই র্যালি করার মানে কী? সরকার কোথায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে তা না করে মানুষকে হয়রানির মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ অনেক জায়গায় অ্যাম্বুলেন্স আটকে রেখেছে। এদের কাছে মানুষের জীবনের কোনও মূল্য নেই। এই অমানবিকতাকে মেনে নেওয়া যায় না।”

