আমাদের ভারত, ২৭ সেপ্টেম্বর: আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিওতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলছেন, বিজনেস টাইকুন মুকেশ আম্বানির বাড়ি ওয়াকফ বোর্ডের জমির উপরে তৈরি হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, মহারাষ্ট্রে যদি তাঁর সরকার থাকতো তাহলে এই বাড়ি তারা ভেঙ্গে ফেলতেন।
মুসলিমদের একটি সভায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বক্তব্য রাখার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে দেখা গেছে, কখনো যদি আপনাদের প্রয়োজন পড়ে তাহলে শরীর-মন, অর্থ সব দিয়ে কেজরিওয়াল এবং দিল্লি সরকার আপনাদের অর্থাৎ ওয়াকফ বোর্ডের সঙ্গে থাকবে। বোম্বেতে এই দেশের সবথেকে ধনী মানুষ আম্বানির বাড়ি ওয়াকফ বোর্ডের মালিকানাধীন জমির উপর তৈরি হয়েছে।
अम्बानी का घर भी वक़्फ़ बोर्ड की प्रॉपर्टी हैं , हमारी सरकार होती अम्बानी का घर तुड़वा देती । pic.twitter.com/BO3sWVnZ4C
— Tajinder Bagga (@TajinderBagga) September 27, 2022
বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “মহারাষ্ট্রে সরকারের ক্ষমতায় সংকুলান হচ্ছে না এক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ করার। কিন্তু আমাদের সরকার যদি থাকতো তাহলে ওই সম্পত্তি ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে পারতো। যখনই ওয়াকফ বোর্ডের কোনোরকম প্রয়োজন হবে দিল্লির সরকার ওয়াকফ বোর্ডের সাথেই থাকবে।”
তবে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের যে ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে সেটি ২০১৯ সালের অর্থাৎ তিন বছরের পুরনো একটি ভিডিও বলে জানা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন এই ভিডিও ভাইরাল হবার কারণ হিসেবে সম্প্রতি তামিলনাড়ুর একটি ঘটনা সামনে এসেছে। সেখানে তিরুচিরাপল্লীর একটি হিন্দু অধ্যুষিত গোটা গ্রামের মালিকানা হঠাৎ ওয়াকফ বোর্ড দাবি করেছে। ওই গ্রামের এক হিন্দু ব্যক্তি তার মেয়ের বিয়ের জন্য নিজের নামে থাকা জমি বিক্রি করতে গিয়ে জানতে পারেন ওই জমির মালিক ওয়াকফ বোর্ড। এরপরই জানা যায়, ওই গ্রামে থাকা ১৫০০ হাজার বছরের পুরোনো মন্দিরের জমি সহ গোটা গ্রামের জমির মালিকানা সম্প্রতি ওয়াকফ বোর্ড দাবি করেছে। স্বভাবতই মাথায় হাত পড়েছে নিরীহ গ্রামবাসীর।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মুকেশ আম্বানির বাড়ি নিয়ে বোম্বে হাইকোর্ট আগেই ২৯১৭ ওয়াকফ বোর্ডকে নোটিশ দিয়েছিল, কেন ওয়াকফ বোর্ড আম্বানির বাড়িকে নিজের সম্পত্তি বলে দাবি করেছে তা হলফনামা দিয়ে জানাক। জানা যায়, ২০০৫ সালে এই জমিটি আম্বানিরা কিনেছিলেন নিজেদের বাড়ি অ্যান্টিলিয়া তৈরির জন্য।

