পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৯ জানুয়ারি: তাজ্জব ঘটনা! দিদির দূত সভাধিপতিকে চিনতেই পারলেন না গ্রামের মহিলারা। প্রথমবার গ্রামে দেখলেন খোদ জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে, মন্তব্য মহিলাদের। কেউ কেউ আবার বললেন, ব্লক থেকে লোক এসেছে ঘরের খোঁজ নিতে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে যায় দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি ব্লকের মহাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বলিপুকুর এলাকায়। শুধু তাই নয়, হাতের কাছে সভাধিপতিকে পেয়ে অনুন্নয়নের পাহাড় নিয়ে ক্ষোভ উগড়ালেনও মহিলারা। ঘটনা নিয়ে কিছুটা হতচকিত হয়ে পড়েন খোদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায়ও।
সুরক্ষা কবচ নিয়ে দিদির দূতরা ইতিমধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘোরা শুরু করেছেন। শুনছেন সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগের কথার পাশাপাশি সরকারী কী কী প্রকল্প পেয়েছেন সেসবও নথিভুক্ত করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের নির্দেশে গত তিনদিন ধরে জেলায় শুরু হয়েছে তৃণমূলের এই কার্যক্রম।
এদিন সেই হিসাবেই বংশীহারির মহাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বলিপুকুরে গিয়েছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায়। যেখানে গিয়েই কার্যত অস্বস্তিতে পড়েন খোদ সভাধিপতি। কেননা গ্রামের মহিলাদের কেউই তাঁকে চিনতে পারলেন না। অনেকে বললেন, প্রথমবারের জন্য তাকে দেখলাম। কেউ কেউ আবার বললেন ব্লক থেকে লোক এসেছে ঘরের খোঁজ নিতে। যে ঘটনা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে জেলাজুড়ে। এরপরে নিজের পরিচয় দিয়ে মহিলাদের সাথে কথা বলতেই এলাকার অনুন্নয়ন তুলে ধরে ক্ষোভ উগড়ে দেন মহিলারা। তারা বলেন, পানীয় জলের চরম সমস্যার কথা। শুধু তাই নয়, মাটির ভাঙ্গা ঘরে বাস করেও তারা কেন সরকারী পাকা ঘর পাবেন না সে প্রশ্নও তুলেছেন? যদিও বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দিয়েছেন সভাধিপতি লিপিকা রায়।
গ্রামের দুই মহিলা মিলিয়ারা খাতুন ও মমতাজরা খাতুন বলেন, এর আগে কোনওদিন তাক্বকে দেখিনি। তাঁকে চেনেন না কেউই। এলাকার একাধিক সমস্যার কথা তাঁকে জানানো হয়েছে, লিখে নিয়েছেন। কিন্তু আদৌ সেগুলো হবে কিনা জানি না।
সভাধিপতি লিপিকা রায় বলেন, দলীয় নির্দেশ মেনে আজ গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষের কাছে গিয়েছেন এবং শুনেছেন তাদের সমস্যার কথা। সরকারী প্রকল্প কী কী তারা পেয়েছেন সব নথিভুক্ত করেছেন।

