আমাদের ভারত, ৪ এপ্রিল: হিংসা কবলিত রিষড়ায় ঢুকতে গিয়ে ফের বাধার মুখে পড়েন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লি রোডের দিক থেকে রিষড়ায় ঢোকার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু ডানকুনি থানা এলাকার জগন্নাথপুর মোড়ে ব্যারিকেট করে তাঁকে পুলিশ আটকে দেয়। বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে কেন আটকানো হয়েছে তার কোনো সঠিক জবাব যদিও পুলিশ দিতে পারেনি।
সোমবার রাতের হিংসার পর মঙ্গলবার দুপুরে আক্রান্তদের সঙ্গে দেখা করতে রিষড়ায় ঢোকার চেষ্টা করেন সুকান্ত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। কিন্তু পথে ডানকুনি থানা এলাকার জগন্নাথপুর মোড়ে সুকান্তদের আটকে দেয় পুলিশ। তারা বলেন যে, তারা দু’জন সাংসদ পায়ে হেঁটে এলাকায় যেতে চান, কিন্তু পুলিশ তাতেও বাধা দেয়। এরপর পুলিশকে একের পর এক প্রশ্ন করে বাক্যবানে আক্রমণ করেন তিনি। যদিও সাংসদদের কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি সেখানে থাকা পুলিশ আধিকারিকরা। কেবলই বলেছেন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তারা এই পদক্ষেপ করছেন।
সুকান্ত বাবু বলেন, “মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না, আক্রান্তদের গ্রেপ্তার করছে, তাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে আমাদের বাধা দিচ্ছে। এই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি নেই তবুও আমাদের বাধা দেওয়া হলো। তৃণমূল সরকার ফ্যাসিবাদীর চরম সীমায় পৌঁছে গেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রিষড়ায় আমাদের কাউন্সিলরের দপ্তর ভাঙ্গচুর হয়েছে, তখন কোথায় ছিল পুলিশ? তাঁর আরো প্রশ্ন, ১৪৪ ধারার মধ্যে দুয়ারে সরকার চলছে তার মানে ১৪৪ ধারা লাগু করাটা শুধুমাত্র একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হলে দুয়ারে সরকার হওয়ার কথা নয়।” একইসঙ্গে তাঁর দাবি, এই সরকারের আয়ু এবার শেষের পথে বাংলার মানুষের আর এই সরকারের উপরে ভরসা নেই।
তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই তাকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ইচ্ছে করে একটা জনমানবহীন এলাকায় তাদের আটকে দেওয়া হল, যাতে জল খাবারটুকুও তারা না পান। তাঁর অভিযোগ, “১৪৪ ধারা জারি থাকলে পাঁচজনের বেশি জমায়েত করা যায় না, আমি পুলিশকে বলেছিলাম ৫ জনের বেশি লোক যাবে না, আমাদের ঢুকতে দিন। দু’জন সাংসদ সহ যেতে চাইলে তাও দেওয়া হচ্ছে না।”
এদিকে সোমবারই তিনি ঘোষণা করেছিলেন মঙ্গলবার শ্রীরামপুরের বটতলায় ধর্নায় বসবেন। সেই মতো সকালে মঞ্চ বাঁধার কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ গিয়ে সেই মঞ্চ খুলে দেয়। পুলিশের দাবি ছিল, তাদের কোনো অনুমতি নেই। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

