মমতার সিদ্ধান্তকে ঠিক বললেও অভিষেকের সিদ্ধান্তকে, “সময় বলবে” বলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য পার্থর

আমাদের ভারত, ২৯ জুলাই: তাকে মন্ত্রিসভায় থেকে সরানোর মমতার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মেনে নিলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাকে দল থেকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তকে “সময় কথা বলবে” বলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

শুক্রবার দুপুরে জোকার ইএসআই হাসপাতালে ঢোকার সময় পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার”। ঘন্টাখানেক পর যখন তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে আনা হচ্ছে তখন তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি কাদের ষড়যন্ত্রের শিকার? হুইল চেয়ার বাহিত পার্থ চট্টোপাধ্যায় তখন শুধু বললেন,” যারা ষড়যন্ত্র করছে তারা জানতে পারবে।” এরপর হাসপাতাল থেকে বের করে গাড়িতে ওঠানো পর্যন্ত সংবাদমাধ্যম পার্থকে ষড়যন্ত্র নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি জিজ্ঞাসা করে দল থেকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা কি ঠিক? জবাবে মুখ থেকে মাস্ক নামিয়ে পার্থ সরাসরি বলেন, “দলের সিদ্ধান্ত দেখে নিন। নিরপেক্ষ তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাকে আবার প্রশ্ন করা হয় দলের সিদ্ধান্ত কি ঠিক? দ্বিতীয়বার এই প্রশ্নের জবাবে অবশ্য তিনি বলেন, “সময় বলবে।” বস্তুতঃ তিনি এই দুটো শব্দের পুনরাবৃত্তি করেন। এরপর গাড়িতে বসার পর তাকে প্রশ্ন করা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত কি ঠিক? তার জবাবে পার্থ বলেন “হ্যাঁ ঠিক।”

আজ পার্থর জবার থেকে স্পষ্ট তিনি মমতার সিদ্ধান্ত ও দলের সিদ্ধান্তকে পৃথক করে দেখেছেন। অর্থাৎ মমতা তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা ঠিক কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি তাকে সাসপেন্ড করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ঠিক নয়। এর ফলে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে।

এদিকে পার্থ ষড়যন্ত্রের তত্ত্বের কথা বলার পরেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন, “পার্থকে নিয়ে তৃণমূল দুটো ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। পার্থর বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির অভিযোগে খুশি হয়েছে অভিষেকের শিবির। হাসপাতাল থেকে বেরোনোর পথে পার্থ যা বলেছেন তাতে বিরোধীরা অধীর বর্ণিত ওই বিভাজনের তত্ত্বে আরও উৎসাহ পাবে বলে মনে করছে তৃণমূলের একাংশ।

তৃণমূল গঠনের সময় থেকেই পার্থ মমতার আস্থাভাজন। বরাবর তিনি মমতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তেই থেকেছেন। অভিষেক বয়সে ও রাজনীতিতে তার চেয়ে অনেকটাই জুনিয়ার। এই দুজনের সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে গত পৌরসভা ভোটের সময়। দুটি প্রার্থী তালিকা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে বিভাজন তৈরি হয়। মহাসচিবের প্রার্থী তালিকার সঙ্গে শুরু হয় প্রশান্ত কিশোরের সংস্থাই প্যাকেট দেওয়া তালিকার লড়াই। ২ তালিকার টানাপোড়নে মধ্যস্থতা করতে নামতে হয়েছিল স্বয়ং মমতাকে।

তার কয়েক মাস পরই ঘটনার নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে। দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পার্থ গ্রেপ্তার। প্রথমদিকে মমতা তার প্রতি সহানুভূতিশীল থাকলেও অ্যারেস্ট মেমোতে পার্থ তার নাম এবং ফোন নম্বর উল্লেখ করায় অসন্তুষ্ট হন মমতা। কালক্রমে আরো কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ায় পার্থকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলীয় স্তরেও পার্থর বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দেন পার্থকে নিজেকেই নিজেকে আইনের চোখে নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে। অভিষেক আরো বলেন, পার্থর দোষ প্রমাণ হয়নি। কিন্তু উদাহরণ তৈরি করার জন্য এই সিদ্ধান্ত। তার কথায়, সবাই যাতে বুঝতে পারে দল যদি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতাকে সরাতে পারে, তবে দলের যে কোনো পদে থাকা ব্যক্তি দোষ করলে রেহাই পাবে না।

কিন্তু এরপর পার্থর করা মন্তব্যে অন্য তাৎপর্য লুকিয়ে আছে বলে মনে করা হচ্ছে। পার্থ বলেছেন তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। আবার দলের সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন সময় বলবে। কিন্তু মমতার সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক শব্দ বলেননি তিনি। জল্পনা শুরু হয়েছে তাহলে কি নেত্রী নয়? কিন্তু দলের সর্বোচ্চ নেতাদের দিকে আঙ্গুল তুললেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *