আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ১৪ ডিসেম্বর: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহ্যবাহী ১২৬ বছরের পুরনো পৌষ মেলা করবে কি করবে না তা নিয়ে সংশয় ছিল প্রথম থেকেই। এমনকি বোলপুর পৌরসভা পৌষ মেলা করবার আবেদন জানালেও বিশ্বভারতীর উপাচার্য বা তার তরফ থেকে কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তাই বিকল্প পথেই এবার বোলপুরবাসী।
সূত্রের খবর, আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বোলপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই বিকল্প মেলা। ইতিমধ্যেই বীরভূম জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মেলার অনুমতি পাওয়া গেছে। বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুনীল সিং বলেন, “করোনা ও পরবর্তী সময়ে ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। গত বছর এই অতিমারীর কারণে পৌষ মেলা না হলেও, এবছর না করার কোনও কারণ ছিল না। ওই একটি লোকের (উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী) জন্য আমাদের শহর ও শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য আজ ভূলুণ্ঠিত। ছোট ছোট ব্যবসায়ী ও হস্তশিল্পীদের স্বার্থেই আমাদের বিকল্প পথে হাঁটতে হলো।”
ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ সুব্রত ভকত জানান, “পৌষ মেলার মতো বড় আকারের মেলা না হলেও, এটি শহরবাসী তথা জেলাবাসীর কাছে একটি বিকল্প মেলা হিসেবেই গড়ে উঠবে। বাংলা সাংস্কৃতি মঞ্চের সহযোগিতায় এই মেলা হবে।”
যদিও এই মেলা শুরু হওয়ার আগেই আগামী ১৮ ডিসেম্বর থেকে বোলপুর শহরের ২০২১-২২ সালের সপ্তাহব্যাপী বীরভূম জেলা বইমেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই মেলাটিও বোলপুর ডাকবাংলা মাঠের ভিতর স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে ডাকবাংলা মাঠের বিকল্প পৌষ মেলা শেষ হতে না হতেই, আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকেই বোলপুর সংলগ্ন শিবপুর মৌজায় বিশ্ববাজারে বিশেষ হস্তশিল্পের মেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং বস্ত্র মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিং’য়ের উদ্যোগে এই মেলাতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হস্তশিল্পীরা এসে তাদের পসরা নিয়ে বসবেন। এখানে ফুড কোর্ট ও বাচ্চাদের জন্য নানা বিনোদনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

