সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২১ নভেম্বর: সোসাইটির লভ্যাংশের টাকা থেকে বঞ্চনার অভিযোগে আজ বড়জোড়া ট্রান্স দামোদর খোলামুখ খনিতে ডেপুটেশন প্রদান ও অবস্থান বিক্ষোভ দেখান বঞ্চিত ভূমিহারা ব্যক্তিরা। এদিন সকাল থেকে মহিলা ও পুরুষ মিলিত ভাবে অবস্থানে বসেন। এই খোলামুখ খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের বরাত পেয়েছে রাজ্য সরকারের সংস্থা দুর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেড বা ডিপিএল কর্তৃপক্ষ।
বড়জোড়া লাগোয়া ১২টি গ্রামের কৃষি পরিবারের কৃষি জমি নিয়ে এই খনি চালু হয়। এতে তালিকাভুক্ত ভূমিহারাদের সংখ্যা ৪৫০০। ডিপিএল খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের আগে ২০২০ সালে ভূমিহারাদের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। বঞ্চিতদের প্রতিনিধি প্রশান্ত ভূঁই এই দাবি করে বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ট্রান্স দামোদর ট্রান্সপোর্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামে একটি সংস্থা তৈরি করে তার মাধ্যমে কয়লা পরিবহন করবে। এই পরিবহনের লভ্যাংশ থেকে টন প্রতি একটা অর্থ ওয়েলফেয়ার সংস্থার কাছে জমা রাখা হয়। বছরের শেষে সেই টাকা তালিকাভুক্ত ৪৫০০ ভূমিহারাকে সমান ভাগে দেওয়া হয়।

প্রশান্ত ভূঁই- এর অভিযোগ, গত ৩ বছর সেভাবে হয়ে এলেও হঠাৎ করে এবছর ১৫০০ ভূমিহারাকে লভ্যাংশের টাকা দেওয়া হলো না। বঞ্চিতদের সংগঠনের সভাপতি নিমাই চৌধুরী বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে বাড়ির মেয়ে বউদের নিয়ে কোলিয়ারির গেটে অবস্থানে বসতে বাধ্য হয়েছি। তিনি দাবি করেন, এই ১৫০০ ভূমিহারার প্রাপ্য অর্থ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নেতারা ভাগ বাঁটোয়ারা করে আত্মসাৎ করেছেন। আমরা তাদের কাছে দাবি জানিয়েও সাড়া পাইনি।
ট্রান্স দামোদর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক অশোক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওদের অভিযোগ মিথ্যা। আমরা যে ১২টি গ্রামের বাসিন্দারা জমি দিয়েছি তারা এই লভ্যাংশের দাবিদার। তাদের সকলকেই দেওয়া হয়েছে। এখন কিছু ব্যক্তি অন্যায় দাবি করে বলছে অধিকৃত জমির অংশীদার মেয়েরাও। তারা বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে অন্যত্র থাকেন। তাঁর দাবি, যারা এখানেই থাকেন না বা কোলিয়ারির কুফল ভোগ করেন না তারা কেন লভ্যাংশের অংশ পাবেন? এটা তো অধিকার নয়।
এবিষয়ে কোলিয়ারির ডিজিএম জয়ন্ত বিসুই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তিনি জানান, এই লভ্যাংশের অর্থ প্রত্যেক ভূমিহারার প্রাপ্য। গত ৩ বছর পেয়ে থাকলে এবছর পাবেন না কেন? বিষয়টি নিয়ে তিনি ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কর্ম কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে বিক্ষোভকারীদের জানান।

