স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদীয়া, ৭ জুলাই:
ট্রেড লাইসেন্স করাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠল গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। নতুন ট্রেড লাইসেন্স করতে বা পুরনো লাইসেন্স নবীকরণ করতে গেলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠল রানাঘাট এক নম্বর ব্লকের অন্তর্গত হবিব পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে।
করোনা আবহে দীর্ঘ লকডাউনের কারণে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ীদের, যার ফলে নিজেদের রুটি-রুজির স্বার্থে ভগ্নপ্রায় ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন অর্থলগ্নি সংস্থা ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতিতে ঋণ মঞ্জুর করাতে নতুন ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্সের অনুমতি নেওয়া বা পুরনো লাইসেন্সের নবীকরণ করাতে গ্রাম পঞ্চায়েতে দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকছে না ব্যবসায়ীদের কাছে। যার সুযোগ নিয়ে রীতিমতো নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি নির্দেশকে অবমাননা করে ব্যবসায়ীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠল হবিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন ভুয়ো ভ্যাকসিন, ভুয়ো তৃণমূল নেতা, ভুয়ো সিবিআইয়ের পর এবার রাজ্যে ভুয়ো ডিএসপি
যদিও এই বিষয়ে জানতে গেলে সম্পূর্ণ দায়ভার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান গোপাল ঘোষের উপর চাপিয়ে দিতে দেখা গেলো দায়িত্বপ্রাপ্ত পঞ্চায়েত কর্মীদের। পঞ্চায়েত প্রধান গোপাল ঘোষ অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও তিনি বলেন, “নিয়মবহির্ভূতভাবে জোরপূর্বক নয়। পঞ্চায়েতের সার্বিক উন্নতি স্বার্থে আবেদনকারীদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অনুরোধ করা হয়।” আবেদনকারীর সামর্থ্য অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের চাইতে অনেক কম মূল্যও ধার্য করা হয়, পাশাপাশি যেসব আবেদনকারী আর্থিকভাবে দুর্বল তাদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন পঞ্চায়েত প্রধান।
আরও পড়ুন বিচার ব্যবস্থাকে কলুষিত করার অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা কলকাতা হাইকোর্টের

তবে, এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত তারঁ কাছে কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও সঞ্জীব সরকার। তবে পরবর্তীকালে যদি কোনও অভিযোগ আসে তাহলে সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবার আশ্বাস দিয়েছেন রানাঘাট এক নম্বর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক।

