বিরোধী দলনেতার গাড়ির ধাক্কায় যুবকের প্রাণ যাওয়ার অভিযোগ, প্রতিবাদে বিক্ষোভ তৃণমূলের

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ৫ মে:
বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ দিঘা- নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়কের চন্ডীপুরের কাছে একটি দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন স্থানীয় এক যুবক। সাইকেলে চেপে ওই যুবক সেই সময় রাস্তা পার করছিলেন। মারাত্মক যখম অবস্থায় ওই যুবককে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত যুবকের নাম সেক ইসরাফিল (৩৩)। তিনি চন্ডীপুরের ভৈরবপুর এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

তবে এই ঘটনা কিছু সময় বাদে অন্যদিকে মোড় নেয়। যখন স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ের ধাক্কায়। কনভয়ের সামনের দিকে থাকা গাড়ির ধাক্কাতেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। এরপরেই স্থানীয়রা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেফতারের দাবিতেও সরব হতে দেখা যায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাকে। এই ঘটনার জেরে ১১৬বি জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। দিঘাগামী বহু গাড়ি সার দিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে।

তবে এই ঘটনার জন্য শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় দায়ী কি না তা এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। ইতিমধ্যে ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন চন্ডীপুরের বিডিও, ওসি চন্ডীপুর এবং নন্দীগ্রাম থানার আইসি।

গোটা ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অমরনাথ কে জানান, “চন্ডীপুরে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ের ধাক্কায় দুর্ঘটনা বলে অভিযোগ এসেছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখছি। এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি ঠিক কি ঘটনা ঘটেছে সেটা আমরা খতিয়ে দেখার পরেই এই নিয়ে বিশদ বলতে পারব”। তিনি আরও জানান, “এই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর এসেছে। বিশদে তদন্ত চলছে। তারপরেই সবদিক খোঁজ নিয়ে আমরা প্রকৃত ঘটনা কি ঘটেছে সেই সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারব”।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারা শুভেন্দু অধিকারীর এই অমানবিক ও অপরাধমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছে। কেন ওই জখম ব্যক্তিকে সময়মত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি তা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে।

শুক্রবার সকালে, দোলা সেন, সোহম চক্রবর্তী, বীরবাহা হাঁসদা, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাংশু ভট্টাচার্য, তন্ময় ঘোষ, জয়া দত্ত, সুদীপ রাহা সহ পূর্ব মেদিনীপুরের নেতাদের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল করা হয়। যেখানে তারা শুভেন্দু অধিকারীর গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তার বক্তব্যে বলেছেন, “পিষে মেরে দেওয়ার পর শুভেন্দু কনভয় থামিয়ে উদ্ধারের মানবিকতা দেখাননি। পালিয়ে গেছেন। আসানসোলেও একইভাবে পালিয়ে গেছিলেন। ফেরার আসামী শুভেন্দুর গ্রেফতার চাই।”

রাজ্যসভা সাংসদ জহর সরকার টুইট করে বলেছেন, “BJP’s Leader of Opposition in WB runs away after his car hit a man and killed him! This life could have been saved had he picked up the wounded man and taken him to nearest hospital. Unforgettable!”

ঘটনার পর গ্রামবাসীরা দাবি করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বুলেটপ্রুফ গাড়িটি প্রচন্ড গতিতে এসে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যান। পাশাপাশি তারা আরো দাবি তোলেন যে, গাড়ির চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।

ঘটনার পর থেকে গোটা অঞ্চলজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতিমধ্যে তৃণমূল নেতৃত্ব ইসরাফিলের পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য পৌঁছেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *