আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ১০ ডিসেম্বর: পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগ তুলে এক ছাত্রীর বাবা ও মাকে বিদ্যালয়ে ডেকে অপমান, সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করল অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর। সুইসাইড নোটে এই অভিযোগ করেছে ওই ছাত্রী। আত্মঘাতী ছাত্রীর নাম শ্রেয়া ঘোষ (১৩), বাড়ি জলপাইগুড়ি শহরের দেবনগর এলাকায়। শহরের সুনীতিবালা সদর বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রী। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সহ আরও দুই শিক্ষিকার নামে কোতোয়ালি থানার অভিযোগ জানাল ছাত্রীর পরিবার।
গত ৭ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির সংস্কৃত পরীক্ষা ছিল। মৃত ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, সংস্কৃত পরীক্ষা চলাকালীন একই ক্লাসের এক সহপাঠী বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে অভিযোগ করে জানায় শ্রেয়া নকল করেছে। সহপাঠীর কথা শুনে শ্রেয়াকে তল্লাশি করে শিক্ষিকা। তল্লাশি করেও শ্রেয়ার কাছ থেকে নকল করার কোনও প্রমান পায়নি শিক্ষিকা। তারপরেও শ্রেয়ার পরীক্ষা বাতিল করে তার বাবা মা’কে ৮ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ে ডেকে অপমান করা হয়, তাও আবার ছাত্রীর সামনে।
সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে ৯ ডিসেম্বর গলার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে শ্রেয়া বলে অভিযোগ। ওই ছাত্রী সুইসাইড নোট লিখে যায়। সেখানে সব কথা উল্লেখ করে গিয়েছে। সেই সুইসাইড নোট হাতে পেয়ে প্রধান শিক্ষিকা সহ আরও দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করলেন পরিবার। মৃতদেহ জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। শনিবার ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে।

ছাত্রীর বাবা দেবদুলাল ঘোষ কোতোয়ালি থানার লিখিত অভিযোগ করে জানান, “আমার মেয়ে নকল করেনি। অন্য এক ছাত্রীর কথা শুনে আমার মেয়েকে ফাঁসানো হয়েছে। চাপ দিয়ে লেখানো হয় নকল করেছে। অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে। এর জন্য দায়ী প্রধান শিক্ষিকা সহ আরও দুই শিক্ষিকা। পুলিশ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।”
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস বলেন, “আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এসে জানায় নকল করেছিল ওই ছাত্রী। নকল করেছে সেটা লিখে দিয়েছে। অভিভাবকদের জানানো হয়েছে ডেকে। কিন্তু ঘটনার দুই দিন বাদে আত্মহত্যা কেন করল সেটা জানা নেই। তবে আমরা কোনও চাপ কিংবা অপমান করিনি। শুধু সর্তক করা হয়েছে।” আইসি অর্ঘ্য সরকার বলেন, ” অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।”

