আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৭ ফেব্রুয়ারি: ভোটের নামে সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ উঠলো শাসক দলের বিরুদ্ধে। কোথাও বুথ দখল করে ছাপ্পা আবার কোথাও প্রার্থীকে মারধর করেন বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ভোট লুট হচ্ছে বলে কেঁদে ভাসালেন বনগাঁর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী। নির্দল প্রার্থী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে বলে অভিযোগ। বনগাঁ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেস প্রার্থী দেবযানী চক্রবর্তীকে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী স্বামীর বিরুদ্ধে।

ভোটের নামে এক প্রকার প্রহসন চলল বনগাঁর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে, এমনই অভিযোগ সিপিএমের। দফায় দফায় বহিরাগত দুষ্কৃতীরা এসে দখল নিল এই ওয়ার্ডের বনগাঁ হাইস্কুলের চারটি বুথ। ওই ওয়ার্ডের সিপিএম প্রার্থী দিশারী মুখার্জির অভিযোগ, ‘সকালে ভোট শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও কিছুক্ষণ পর থেকেই শুরু হয় দুষ্কৃতী তান্ডব। প্রথম দফায় একদল দুষ্কৃতী এসে বুথের সমস্ত দরজা বন্ধ করে ভয় দেখিয়ে পরপর ছাপ্পা ভোট দেয়। আমরা প্রতিবাদ করায় কিছুক্ষণ পর তারা সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।’ এই ঘটনার পর বিজেপি এজেন্ট বুথ থেকে বেরিয়ে যান। তারপরেই এক বিজেপি কর্মী বুথের বাইরে আক্রান্ত হন। তাঁকে মারধর করা হয়।
এই ঘটনার পর ফের ভোট গ্রহণ পর্ব শুরু হলেও ঘণ্টাখানেক বাদে আর একদল বহিরাগত দুষ্কৃতি হাজির হয় বনগাঁ হাইস্কুলে। তারপর শুরু হয় দ্বিতীয় দফার বুথ দখল। পুলিশের সামনেই এই ওয়ার্ডের বনগাঁ হাইস্কুলের চারটি বুথ দখল করে নেয় বহিরাগতরা, এমনই অভিযোগ তুলে সিপিএম প্রার্থী জানান, বহিরাগতরা বুথের ভেতরে ঢুকে সবাইকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে একের পর এক ছাপ্পা ভোট দিতে শুরু করে। সিপিএম প্রার্থীর আরও অভিযোগ, এই ওয়ার্ডের একটি বুথের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন প্রিসাইডিং অফিসার। ফলে বহিরাগতদের ছাপ্পা ভোট দিতে সুবিধা হয়। একসময় গোটা হাইস্কুল চত্বর বহিরাগতদের দখলে চলে যায়। পরিস্থিতি বিপদজনক দেখে প্রার্থী নিজেও নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।

এদিকে, বুথ দখলের খবর পেয়ে এলাকায় ছবি তুলতে যান সাংবাদিকরা। তাঁদের মধ্যে দুজন সাংবাদিককে দুষ্কৃতীরা বেধড়ক মারধর করে। তাদের মোবাইল ভেঙ্গে দেওয়া হয়। আক্রান্ত দুই সাংবাদিকের নাম উৎপল মল্লিক এবং সুজিত সরকার। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে বনগাঁ মহকুমা প্রেস ক্লাব।
বনগাঁর কংগ্রেস প্রার্থী মধুসূদন মণ্ডল বলেন, শাসক দল ভোটের আগে দোষ চাপিয়েছিল তৃণমূলের প্রাক্তন
চেয়ারম্যান শংকর আঢ্যের উপর। তারা বলেছিল শংকর আঢ্যের দুর্নীতির কারণে লোকসভা বিধানসভা ভোটে হার হয়েছিল। এই বলে তাঁকে দল থেকে কোণঠাসা করা হয়েছে। তবে তাই যদি হয় সামান্য পৌরসভা ভোটে কেন এতো সন্ত্রাস করতে হল বনগাঁর তৃণমূলকে।

