Housing scheme, Saltora, আবাস যোজনা প্রকল্পে পঞ্চায়েত প্রধানের নাম, প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ, ব্যাপক ক্ষোভ শালতোড়া গ্রামে

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩০জানুয়ারি: দাবিমতো টাকা দিতে না পারায় প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম আবাস যোজনা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে শালতোড়ায়। প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম বাদ গেলেও পঞ্চায়েত প্রধানের নাম নথিভুক্ত হাওয়ায় ক্ষোভ চরমে উঠেছে।

আবাস যোজনা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত এই পঞ্চায়েত প্রধানের দাবি মতো টাকা দিতে না পারায় প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে আবাস যোজনার তালিকায় রয়েছে নির্মীয়মান দোতলা বাড়ির মালিক খোদ পঞ্চায়েত প্রধানের নাম।যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রধানের বক্তব্য, সবই বিজেপির চক্রান্ত।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত প্রধান মাথা পিছু ১২ হাজার টাকা করে দাবি করছেন, এই টাকা দিতে না পারায় আবাস প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে অনেক গরিব গ্রামবাসীর নাম। যাদের নিরাপদে থাকার মতো কোনো বাড়ি নেই। গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম বাদ পড়লেও ওই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে নির্মীয়মান দোতলা বাড়ির মালিক খোদ পঞ্চায়েত প্রধানের নাম। সম্প্রতি বাংলার বাড়ি প্রকল্পে উপভোক্তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। জেলার তালডাংরা ব্লকের শালতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ওই পঞ্চায়েতের কাশিডাঙা বুথের ১১ জন উপভোক্তার নাম। অন্যদিকে সেই তালিকায় রয়েছে নির্মীয়মান দোতলা বাড়ির মালিক পঞ্চায়েত প্রধান মৌসুমী ঠাকুরের নাম। এখবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠেন বাদ পড়া উপভোক্তারা। স্থানীয়রাও তাদের সঙ্গে সামিল হন। তারা গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বরে বিক্ষোভ দেখান।

তাদের অভিযোগ, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম দফার তালিকায় তাদের বুথের ১১ জন প্রকৃত উপভোক্তার নাম ছিল। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এই ১১জনের প্রত্যেকের কাছে ১২ হাজার টাকা করে দাবি করেন। দাবি মতো ১২ হাজার টাকা করে না দেওয়ায় পরবর্তী চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের।

যদিও এসব অভিযোগ উড়িয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের বক্তব্য, তার নিজস্ব বাড়ি নেই, ভাড়া বাড়িতে তিনি থাকেন। তাই তার নাম স্বাভাবিক নিয়মেই তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে কাশিডাঙা বুথের যে ১১ জনের নাম বাদ পড়েছে তাদের সকলেরই পাকা বাড়ি থাকায় চূড়ান্ত সমীক্ষায় তাদের নাম বাদ পড়েছে। উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন পঞ্চায়েত প্রধান। তাঁর অভিযোগ, সবই বিরোধী দল বিজেপির চক্রান্ত।

অন্যদিকে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মৌসুমী ঠাকুর যে বাড়িতে ভাড়া থাকেন সেই বাড়ির মালিক ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে, প্রধানের নিজস্ব নামে জায়গায় না থাকলেও গত এক বছর ধরে এক আত্মীয়ের জায়গায় পঞ্চায়েত প্রধান দোতলা পাকা বাড়ি তৈরি করছেন। তাই প্রশ্ন উঠছে পঞ্চায়েত প্রধানের নিজস্ব পাকা দোতলা বাড়ি তৈরি হচ্ছে অথচ তার নাম বাংলার বাড়ি প্রকল্পের চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেল কিভাবে। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি।

মৌসুমী ঠাকুর অবশ্য বলেন, এটা সম্পূর্ণ বিরোধীদের অপপ্রচার। যাদের নাম প্রথমে ছিল পরে সুপার চেকিং করে দেখা যায়, তাদের প্রত্যেকের পাকা বাড়ি রয়েছে, তাই নাম বাদ গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *