আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ৯ ডিসেম্বর: সাংসদ তহবিলে সংস্কৃতি মঞ্চের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, নির্মাণ সহায়ককে হুমকি দিয়ে উন্নয়নের টাকা তুলে নিয়েছেন ওই দুই তৃণমূল নেতা। বিষয়টি জানিয়ে রামপুরহাট মহকুমা শাসকের মাধ্যমে জেলা শাসকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। এরকম হয়ে থাকলে অন্যায় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সাংসদ শতাব্দী রায়।
জানা গিয়েছে, ২০২৩-২৪ আর্থিক বর্ষে বীরভূমের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের আয়াস গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পীরতলা এবং বেলেবাড়ি গ্রামের দুর্গা মন্দিরের পাশে দুটি সংস্কৃতি মঞ্চ গড়ার জন্য সাংসদ শতাব্দী রায় ছয় লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছিলেন। ওই মঞ্চ গড়ার জন্য চলতি বছরের ৩ মে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু ওই টাকায় সংস্কৃতি মঞ্চ না গড়ে টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চায়েতর প্রাক্তন প্রধান রেজাউল করিম এবং তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি আকবর আলমের বিরুদ্ধে। এই মর্মে রামপুরহাট মহকুমা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা। অভিযোগ, তারা নিজেদের ক্ষমতা বলে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
বেলেবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা, মন্দির কমিটির সদস্য দেবব্রত মণ্ডল বলেন, “গ্রামে একটি রাধামাধব মন্দির তৈরি হচ্ছে। গ্রামবাসীরা মিলে ওই মন্দির তৈরি করছেন। দিন কয়েক আগে সেই মন্দির কমিটির হাতে আকবর আলম এবং ঠিকাদার মীর মিলন গিয়ে নগদ এক লক্ষ ৯০ হাজার টাকা দিয়েছে। বাকি এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা কী হয়েছে বলতে পারব না। তবে সংস্কৃতি মঞ্চ তৈরি হয়নি”।
অভিযোগকারী সামিম হোদা বলেন, “ঠিকাদার টাকা পায়নি। তাই কাজও হয়নি। কিন্তু বিগত পঞ্চায়েতের প্রধান এবং অঞ্চল সভাপতি টাকা তুলে নিয়েছেন”।
কাজের অন্যতম ঠিকাদার আমানুল ইসলাম বলেন, “আমি টাকা পাইনি। তবে টাকা উঠে গিয়েছে”।
আকবর আলম বলেন, “অভিযোগ ভিত্তিহীন। মঞ্চও হয়েছে। সবাই টাকাও পেয়েছে”।
সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “এরকম হয়ে থাকলে অন্যায় হয়েছে। সাংসদ তহবিলের টাকা এভাবে তছরুপ করা উচিত নয়। খোঁজ নিয়ে দেখব।
রামপুরহাট মহকুমা শাসক সৌরভ পাণ্ডে বলেন, “ওখানে রাজনৈতিক সমস্যার কারণে এসব হচ্ছে। তবে বিডিওকে খোঁজ নিয়ে দেখতে বলেছি”।

