আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৫ এপ্রিল: রোগী মৃত্যুর ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নিমতার আলিপুর এলাকা। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে চিকিৎসকের বাড়ি ব্যাপক ভাঙ্গচুর করল উত্তেজিত জনতা।
নববর্ষের সকালে নিমতা আলিপুরের বাসিন্দা পাপ্পু কুন্ডু নামে এক যুবক নিমতা বাজারে গিয়ে হঠাৎই তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে তার বাড়ি নিয়ে যায় এবং স্থানীয় এক চিকিৎসক গৌরব রায়কে ডাকেন রোগীর চিকিৎসার জন্য। কিন্তু ওই চিকিৎসক আসেনি বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, প্রায় তিন চার বার ওই চিকিৎসককে ডাকা হয়। কিন্তু তা স্বত্বেও সে আসেনি। এরপরেই ওই রোগীর অবস্থার অবনতি হলে বাধ্য হয়ে ওই যুবককে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু পথে মৃত্যু হয় তার। সকাল থেকে ডাক্তারকে বার বার ডেকে ও সে রোগী দেখতে না আসায় এই মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর উত্তেজিত জনতা মৃতদেহ নিয়ে গিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বাড়ির সামনে রেখে দেন এবং চিকিৎসকের বাড়িতে ভাঙ্গচুর চালায়। উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিমতা থানা বিশাল পুলিশ বাহিনী। এই ঘটনার জেরে এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, মৃত যুবক করোনার সময় স্বাস্থ্য পরিষেবা দিত।সেখানে বর্তমানে দাঁড়িয়ে সেই ব্যক্তি চিকিৎসার অভাবে মারা গেল এই নিয়েই আরো উত্তেজিত হয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ সময় ধরে পাপ্পু কুণ্ডুর মৃতদেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসেন পৌর প্রতিনিধিরা। তারাও উত্তেজিত জনতাকে বোঝানোর চেষ্টা করে। চিকিৎসকের বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ। উত্তেজিত জনতার দাবি, যে এই ধরনের চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়া হোক। সেই সঙ্গে ওই চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল করার দাবিও করে বাসিন্দারা।
এরপর পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে চিকিৎসকের বাড়ির সামনে থেকে সরাতে গেলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক গৌরব রায়কে আটক করে কড়া পুলিশি প্রহরায় বের করে নিয়ে এসে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় উত্তেজিত জনতার একাংশ নিমতা আলিপুর মোর সংলগ্ন রাস্তা অবরোধর করে। সেই সঙ্গে পুলিশের গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করে উত্তেজিত জনতা। তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবে বলে আশ্বাস দিলে এবং এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ বোঝালে অবরোধ উঠে যায়। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা পাপ্পু কুণ্ডুর মৃতদেহ সৎকারের জন্য নিয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য এলাকায় পুলিশ পিকেট করা হয়েছে।

