বিজেপি করার অপরাধে, লাউদোহায় বেসরকারী কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগ

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২২ মে: নির্বাচনে বিজেপি হেরে যাওয়ায় ঘাড় ধাক্কা খেল ১৯ জন ঠিকাশ্রমিক। দেশজুড়ে লকডাউনে শ্রমিক ছাঁটাইয়ে কঠোর আইন। অন্যদিকে তখন লাউদোহায় বেসরকারী ইস্পাত কারখানায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলির দিকে আঙ্গুল তুলেছে বিজেপি। ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি। পুনর্বহালের দাবিতে পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপিনেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারী। অন্যদিকে কাজ হারিয়ে চরম অনটনে দিন কাটছে ওইসব ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পরিবার। 

চলতি মাসের গোড়াতে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। তাতে রাজ্যে পুনরায় তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছে। পান্ডবেশ্বর বিধানসভা তৃণমূল জয়ী হয়। অভিযোগ, তৃণমূল জয়ী হতেই পান্ডবেশ্বর বিধানসভার বিভিন্ন কারখানায় বিজেপি মনোভাবাপন্ন শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। সম্প্রতি এরকমই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিজেপিনেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারী। তাঁর অভিযোগ, ফলাফল ঘোষণা হতেই পান্ডবেশ্বর বিধানসভার দুটি কারখানায় ১৯ জনের মতো বিজেপিকর্মীকে ছাঁটাই করেছে।” 

ছাঁটাই শ্রমিক ভজন ঘোষ, কার্তিক পাল সিহ ১৯ জন শ্রমিক লাউদোহার ঝাঁঝরা এলাকার বাসিন্দা। ঝাঁঝরায় দুটি বেসরকারী ইস্পাত কারখানায় ঠিকাশ্রমিকের কাজ কর্মরত ছিলেন তাঁরা। যার একটি কারখানায় মুলত নিকাশী ম্যান হোলের ঢাকনা তৈরী হয়।

জানা গেছে, ওইসব শ্রমিকরা এলাকায় সক্রিয় বিজেপিকর্মী। কারখানায় ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য সরব হয়েছিলেন। শ্রমিকদের সংগঠিত করতে পোষ্টারিংও করেছিলেন। বঞ্চিত শ্রমিকদের পক্ষে ভজন ঘোষ জানান, “বিজেপি করি। কারখানায় শোষণ করছিল শ্রমিকদের। শ্রমিক সুরক্ষা নেই। গত পাঁচ বছর ধরে কাজ করছি। প্রতিবাদে সরবও হয়েছিলাম।” ছাঁটাই অন্য শ্রমিকরা জানান, “লকডাউনে আচমকা ছাঁটাই, তাতেই বিপাকে পড়েছি। কাজ হারানোয় অনটনে দিন কাটছে। সংসার চালানো মুশকিল।”

এদিন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারী বলেন, “তৃণমূল প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। বিজেপি করার অপরাধে গরিব নিরীহ শ্রমিকদের ছাঁটাই করছে। লকডাউনে কোন আইনে ছাঁটাই সেটাও বুঝতে পারছি না। তাই জেলাশাসককে লিখিত জানিয়েছি। পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছি। পুনর্বহাল না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।”

যদিও লাউদোহার তৃণমূল নেতা সুজিত মুখার্জি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “যাদের ছাঁটাই করা হয়েছে, তারা অনিয়মিত ডিউটি করছিল। তাই সাময়িক ছাঁটাই করেছে। নিয়মিত কাজ করলে পুনরায় তাদের কাজে ফেরাবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। এটা নিয়ে অযথা রাজনীতি হচ্ছে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *