স্কুলে শিক্ষকদের নেশা করার অভিযোগ, প্রতিবাদ করে আক্রান্ত চার ছাত্র, ভর্তি রানাঘাট হাসপাতালে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৩ আগস্ট: স্কুলে শিক্ষকদের নেশা করার প্রতিবাদ করায় মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি চার ছাত্র। তাদের অভিযোগ স্কুলের ভেতরে কয়েকজন শিক্ষক নেশা করত। এরপরে অভিভাবকদের একাংশ তার প্রতিবাদ করে। অভিভাবকরা প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ভাঙ্গচুরের অভিযোগ করা হয় থানায়। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার স্কুলে ছাত্ররা প্রতিবাদ আন্দোলন করছিল সেই সময় শাসকদলের কয়েকজন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সিভিক পুলিশদের বিরুদ্ধে ছাত্রদের মারধরের অভিযোগ ওঠে।

আহত চার ছাত্র রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় নদিয়ার গাংনাপুর থানা এলাকার সরষে ডাঙ্গা শ্যামাপ্রসাদ হাই স্কুলে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন শিক্ষকরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে রাজনৈতিক মহলে।

সরষে ডাঙ্গা শ্যামাপ্রসাদ হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অভ্রদীপ ভক্ত বলে, “আমাদের স্কুলের শিক্ষকরা আমাদের সামনে মদ, বিড়ি, সিগারেট খাচ্ছে। আমরা আমাদের অভিভাবকদের সে কথা জানিয়েছিলাম। অভিভাবকরা সেই অভিযোগ শুনে শিক্ষকদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসে। শিক্ষকদের অভিযোগ অভিভাবকদের মিটিংয়ের দিন অভিভাবকরা স্কুলের সরকারি সম্পত্তি ভাঙ্গচুর করেছে। অভিযোগ ওই দিন অভিভাবকরা বেশকিছু শিক্ষককে মারধর করেছে এবং এক শিক্ষিকার শ্লীলতাহানি করেছে।

ছাত্ররা জানায়, আমরা আমাদের অভিভাবকদের নামে যে মিথ্যে কেস দেওয়া হয়েছে তার প্রতিবাদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলাম। আমরা ফেসবুক লাইভ করছিলাম। যেখানে শিক্ষকদের কাছে আমরা আবেদন করছিলাম আমাদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কেস তুলে নেওয়ার। এরপরই পুলিশ এবং শাসক দলের লোকরা স্কুলে ঢুকে পড়ে। একের পর এক পুলিশ ও তৃণমূলের নেতারা স্কুলে ঢুকতে থাকে। মেয়ে পুলিশ অফিসার ছাড়া স্কুলে মেয়েদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমাদের একটা ভাই ক্লাস এইটে পড়ে তাকে মাথায় মারা হয়েছে। এছাড়া আমাদের কয়েকজনকে সিভিক পুলিশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।”

দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রাজা (নাম পরিবর্তিত) জানায়, “আমরা শিক্ষায়তনে নেশার দ্রব্য প্রবেশের বিরোধিতা করায় শিক্ষকরা আমাদের বাবা মার নামে সরকারি সম্পত্তি ভাঙ্গচুরের অভিযোগ আনে। আমাদের অভিভাবকদের নামে স্কুল থেকে কেস করা হয়েছে। পুলিশ তাদের ধরার চেষ্টাও করছে। আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমাদেরকে শিক্ষকরা টিসি দেবার ভয় দেখাচ্ছে বলছে তোমাদের লাইফ বরবাদ করে দেবো।”

স্থানীয় বাসিন্দা দীপ্তিদাস জানান, “আমার ছেলেও এই স্কুলে পড়ে। আমার প্রশ্ন মাস্টাররা সিগারেট, বিড়ি কিনে নিয়ে আসাবে ছাত্রদের দিয়ে কেন? মাস্টাররা তো শিক্ষা দিতে যায় ছাত্রদের। তাহলে ছাত্ররা কি শিক্ষা পাবে? মাস্টাররা ভাঙ্গচুর করে উল্টে কেস করেছে। আজকে ছাত্ররা প্রতিবাদ করায় নেতা, পুলিশদের দিয়ে ছাত্রদের মারধর করা হলো। চার পাঁচজন ছেলে ভর্তি রয়েছে হাসপাতলে। স্কুলে নেতারা ঢুকবে কেন? কেন তৃণমূলের নেতারে ঢুকে পুলিশ দিয়ে ছাত্রদের মার খাওয়াবে?”

বিজেপির রাজ্য কৃষাণ মোর্চার সম্পাদক অশোক বিশ্বাস জানান, “সরষেডাঙা স্কুলের যে ঘটনা তা খুবই নিন্দনীয়। আমরা ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত চাই। স্কুলে শিক্ষকদের সঙ্গে কোনও সমস্যা হলে তা ছাত্র অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হতে পারে। কিন্তু মিথ্যা ভাবে তাদের ওপর মাস্টাররা যে দোষ চাপিয়েছেন তারই প্রতিবাদে ছাত্ররা স্কুল বয়কট করে। মাস্টারদের যা মনোভাব সেখানে তারা তৃণমূলের পার্টি অফিস বানিয়ে নিয়েছে স্কুল চত্বর। আজকের যে ঘটনা সেখানে তৃণমূল নেতৃত্ব উস্কানি দিয়ে তাদের মদতেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এটা নিন্দনীয়।

তৃণমূলের মুখপাত্র বাণীকুমার রায় জানান,”সিভিক পুলিশের হাতে আক্রান্ত ছাত্র এবং শাসকদলের ইন্ধনে এই ঘটনা ঘটছে এটা মিথ্যা, সত্যি নয়। তিনি বলেন, সরকার থেকে একটা নোটিফিকেশন দেওয়া হয়েছিল যে ২৯ তারিখের আগে যেন পরীক্ষা না নেওয়া হয় কিন্তু ওই স্কুলের ২৪ তারিখে পরীক্ষা নিচ্ছিল এটা নিয়েই অভিভাবকদের তরফ থেকে কেউ এসেছিল প্রতিবাদ জানাতে। একটা ঘটনা ওখানে ঘটেছে। থানাতেও একটা অভিযোগ হয়েছে। ছাত্ররা এটা নিয়ে সোমবার একটা অভিযোগ জানায়। পুলিশ আসে। ছাত্রদের দাবি ছিল এটা স্কুলের ব্যাপার। কোনও পলিটিক্যাল ঘটনা নয়। সেই সময় পুলিশ, সিভিক যারাই থাকুক না কেন কিছু একটা ঘটেছে। তার ফলে তিন চারজন ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পুলিশ তাদেরকে স্কট করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। এখানে যে বারবার বলা হচ্ছে শাসকদলের ইন্ধনে ঘটনা ঘটেছে তা সত্যি নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *