ভুল রক্ত দেওয়ার অভিযোগ রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে, আশঙ্কাজনক দুই

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, ৪ জুন: একজনের রক্ত অন্য শরীরে দেওয়ায় দুটি জীবন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় চিকিৎসক, নার্সদের কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে। দুই রোগিণীকেই তড়িঘড়ি সিসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও হাসপাতালের এমএসভিপি পলাশ দাস জানিয়েছেন, দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২ জুন রক্তল্পতা নিয়ে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন নলহাটির নগরার আজিমা বিবি এবং রামপুরহাট থানার মাঝখন্ড গ্রামের কাজল রেখা চট্টোপাধ্যায়। আজিমার ‘বি’ পজিটিভ এবং কাজল রেখার ‘ও’ পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের দুজনকে উল্টো রক্ত দেওয়া হয়। আজিমার শরীরে ‘ও’ পজিটিভ রক্ত যেতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে কাজল রেখার ছেলে নিশীথ কান্তি চট্টোপাধ্যায় দেখেন তাঁর মায়ের শরীরের ‘বি’ পজিটিভ রক্ত দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে চিৎকার শুরু করলে চিকিৎসক নার্সরা ছুটে এসে রক্ত বন্ধ করে দেন। নিশীথবাবু বলেন, “আমি নিজে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত নিয়ে এসেছি। কিন্তু নার্সদের গাফিলতিতে রক্ত উলটপালট হয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে বার বার নার্সদের জানালেও তাঁরা প্রথমে কর্ণপাত করেননি। পরে চিৎকার শুরু করলে তাঁরা ছুটে গিয়ে রক্ত বন্ধ করে দেন। আমি চাই কর্তব্যে গাফিলতির জন্য চিকিৎসক ও নার্সের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক”।

আজিমার মেয়ে খালিদা বিবি বলেন, “মায়ের শরীরে রক্ত দেওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই দেখি মা ছটপট করছে। আমি বিষয়টি নার্সদের জানাই। কিন্তু তাঁরা গুরুত্ব দেয়নি। পরে নিজেরাই রক্ত খুলে তড়িঘড়ি মাকে সিসিইউ বিভাগে নিয়ে যাই। মায়ের যদি কিছু হয়ে যায় তাঁর জন্য দায়ী থাকবেন চিকিৎসক ও নার্সরা”।

হাসপাতালের এমএসভিপি পলাশ দাস বলেন, “দুজনকেই সিসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। দুজনের অবস্থায় এখন ভালো। তবে এনিয়ে কেউ অভিযোগ জানালে তদন্ত করে দেখা হবে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *