স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৪ জুলাই: সাধারণ মানুষের জমানো কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠল নদিয়ার নবদ্বীপের ব্রহ্মনগর সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, এলাকার সাধারণ মানুষ কোনো রকম লোন নিতে গেলে চাওয়া হয় একের পর এক বিভিন্ন কাগজপত্র, সে সব দিলেও মেলে না লোন। এমনকি কখনো জমির কাগজ দিলেও লোনের পরিমান দেওয়া হয় সামান্য। কিন্তু সেখানে ব্যাঙ্কের ম্যানেজার ও ওই সমবায় সমিতির ভাইস চেয়ারম্যানের আত্মীয়-স্বজনকে কোনো রকম কাগজপত্র ছাড়াই দিয়ে দেওয়া হচ্ছে লক্ষাধিক টাকার লোন। বারবার ম্যানেজারকে বলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

কৃষি ভিত্তিক এলাকা হওয়ার জন্য এলাকার চাষিদের চাষের কাজে বা অন্য কোনো প্রয়োজনে প্রায়সই লোনের দরকার পরে, কিন্তু মেলে না কোনো সাহায্য।
তাদের আরও অভিযোগ, কয়েক বছর আগে সমবায় সমিতি থেকে একটি জমি কেনা হয় সেই জমিতে রুইপুকুর পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ১০০ দিনের কাজের শ্রমিক লাগিয়ে পুকুর কাটা হয়। এখানেই শেষ নয় সেখানকার মাটিও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে সমিতির কাউকে না জানিয়ে। অভিযোগের তির ম্যানেজার ও পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে।
ওই ব্যাঙ্কের সদস্যদের অভিযোগ, ব্যাঙ্কের ম্যানেজার এবং ভাইস চেয়ারম্যান তারা সাধারণ মানুষের জমানো টাকা কোনো রকম সিকিউরিটি ছাড়াই তাদের ঘনিষ্ঠদের লোন হিসেবে দিচ্ছে। ফলে তারা আশঙ্কা করছে ভবিষ্যতে সেই লোন যদি তারা শোধ করতে না পারেন তাহলে মার যাবে সাধারণ মানুষের টাকা।
অভিযোগ পাওয়ার পরে বারবার আমরা ওই শাখার ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনো রকম ভাবেই যোগাযোগ করতে চাননি।

আজ সমবায় সমিতির সদস্যরা লিখিত আকারে ম্যানেজারের কাছে তাদের দাবি জানায় ও আগামী ৭ দিনের মধ্যে তার উত্তর জানতে চায়।
একের পর এক সমবায়ে দুর্নীতির ছবি ধরা পড়েছিল আগেও। সাথে অতীতের চিট ফান্ড কেলেঙ্কারীতে সর্বসান্ত হয়েছিল আম জনতা, আবারও কি সেই একই ভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে এই সমবায় সমিতির সদস্যরা, সেই আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

