আমাদের ভারত, ১৫ নভেম্বর: মরিচঝাঁপি, নেতাই, নন্দীগ্রাম করার পরেও যদি সিপিএম নিষিদ্ধ না হয়, যদি গোধরা গুজরাত দাঙ্গার পরেও বিজেপি নিষিদ্ধ না হয়, যদি শিখ দাঙ্গার পরেও কংগ্রেস নিষিদ্ধ না হয় তাহলে নাথুরাম গডসের কৃতকর্মের জন্য অখিল ভারত হিন্দু মহাসভাকে কেন নিষিদ্ধ করার চেষ্টা হবে? মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এই প্রশ্ন তুলল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা।
এদিন রবীন্দ্রসদন সংলগ্ন রাণুছায়া মঞ্চে নাথুরাম গডসের ফাঁসির দিনেই সংগঠনের পক্ষ থেকে এই প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করা হয়, এই নিষিদ্ধ করার চেষ্টা একটি ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র মাত্র। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহাসভার সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামী সবার প্রথমে ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মদিনে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ভগবান বিরসা মুন্ডা একজন দরিদ্র প্রান্তিক উপজাতির প্রতিনিধি হয়েও যে ভাবে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদ এবং চার্চের ধর্মান্তরিত করার মৌলবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তার জন্য তিনি সবার কাছে শ্রদ্ধেয়।
এরপর আজকের দিনে নাথুরাম গডসের প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে চন্দ্রচূড় বাবু বলেন, একথা অনস্বীকার্য যে তাঁরা গান্ধীবাদী মানসিকতার বিরোধী। কারণ তাঁদের বিশ্বাস গান্ধীবাদী মানসিকতা অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে শেখায়। গান্ধীর দ্বিচারিতার জন্যই দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে প্রথমে কংগ্রেস ছাড়া এবং পরে ভারতবর্ষ ছাড়া হতে হয়েছে। বিপ্লবী ভগৎ সিং এর ফাঁসির ক্ষেত্রেও গান্ধীর ভূমিকা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু গান্ধীবাদী মানসিকতার বিরোধী হওয়ার অর্থ কখনোই এটা নয় যে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা পশ্চিমবঙ্গ নাথুরাম গডসেকে সমর্থন করে।
চন্দ্রচূড় বাবুর বক্তব্য তাঁরা গান্ধীবাদী মানসিকতা এবং নাথুরাম গডসের মানসিকতা উভয়েরই বিরুদ্ধে এবং এই দুই মানসিকতার সাথেই সমদূরত্ব অনুভব করেন। অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা পশ্চিমবঙ্গ নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শে অনুপ্রাণিত। আগামী বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনেও পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু মহাসভা নেজাজীর দেখানো পথে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে সনাতনী জাতীয়তাবাদী প্রকৃত বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য জন আন্দোলন করবে।
চন্দ্রচূড় বাবু বলেন গান্ধী হত্যা হতেও পরে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। কারণ গান্ধীকে গুলি করার পরও তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল না কেন? এটাও সত্য যে গান্ধী হত্যার পরেই অখিল ভারত হিন্দু মহাসভাকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য নেহেরু তাঁদের দলীয় প্রতীককে নির্বাচন কমিশনের প্রতীক করে দেয়। সেই সাথে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হওয়ার ফলে সব চেয়ে বেশী লাভবান হয় আরএসএস।
চন্দ্রচূড় বাবু দাবি করেন, গান্ধী ও গডসে প্রসঙ্গে বিজেপি ও আরএসএস এর অবস্থান ঠিক কী, সেটাও জানতে চায় অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা সহ সারা ভারতের মানুষ।

