পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৩ ফেব্রুয়ারি: নাট্যগোষ্ঠীর অনুদানের অর্থ বরাদ্দে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠল দক্ষিণ দিনাজপুরে। টানা তিনবছর অনুদান প্রাপ্ত নাটক দলকে বঞ্চিত করা হল বালুরঘাটে। দীর্ঘ ১৫ বছরের পুরনো নাট্য গোষ্ঠীকে দেওয়া হল না অনুদানের ৫০ হাজার টাকা। বালুরঘাট সমবেত নাট্য কর্মী সংস্থার এমন অভিযোগ ঘিরেই শোরগোল। ভোটের মুখে অনুদান বিলি নিয়ে উঠলো দ্বিচারিতার প্রশ্নও। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।
জানাগেছে, ২০১৭ সাল থেকে রাজ্যের নাট্য সংস্থাগুলিকে আরও উজ্জীবিত করতে প্রতি বছর ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া শুরু করে রাজ্য সরকার। সব মিলিয়ে এবারে রাজ্যে প্রায় ৪০০টি সংগঠন এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত সপ্তাহে সকল নাট্য সংস্থাকে ওই অনুদান বরাদ্দ করা হলেও প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে বালুরঘাটের সমবেত নাট্য কর্মী সংগঠনকে। যেখানে দক্ষিণ দিনাজপুরের আরও তিনটি দল ওই সুবিধা পেয়েছে। টানা তিনবছর সরকারি সমস্ত নিয়ম মেনে ওই নাট্য সংস্থা তাদের প্রাপ্ত অনুদান ঘরে আনতে সক্ষম হলেও, এবারে কেন তাদের দেওয়া হল না তা নিয়েই শহরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যে প্রশ্নের উত্তরে রাজ্য সরকারের পক্ষপাত মূলক আচরণকেই দায়ী করেছেন নাট্য সংস্থার কর্মকর্তারা।
সূত্রের খবর, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি জেলায় এসে রাজ্য সরকারের পুরষ্কার প্রাপ্ত নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যের বাড়ি গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। যার মাধ্যম হিসাবে কাজ করেছিলেন বালুরঘাট সমবেত নাট্যকর্মী সংগঠনের নির্দেশক প্রদোষ মিত্র। যে কারণকে সামনে এনেই সংগঠনের আর্থিক অনুদানের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে, বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
প্রদোষ মিত্র জানিয়েছেন, তাঁদের নাট্য দল আগেও চলেছে। আর্থিক অনুদান পেলে অনেকটাই সুবিধা হয়। তবে এবারে পাননি। তারা কাজ চালিয়ে যাবেন। কোনও এক অজ্ঞাত কারণেই তারা এবারের অনুদান পাননি। তবে এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে কিনা তা তার জানা নেই।
বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, ভোটের মুখে অনুদান বিলিতেও রাজনীতি করেছে রাজ্য সরকার। সংস্কৃতি, নাটক সব ক্ষেত্রেই দলবাজি করাটা কখনোই ঠিক নয়। সাধারণ মানুষ এর জবাব সঠিকভাবে এবং সঠিক সময়েই দেবে।

