প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৮ জুলাই:
নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের শিব নিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। প্রকৃত প্রাপকদের বঞ্চিত করে প্রধান রাখি ঘোষ প্রধান মন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর বেআইনিভাবে দোতলা বাড়ি থাকা ব্যক্তিকে দিয়েছেন এমনই অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর বক্তব্য, প্রধান গরিব মানুষকে বঞ্চিত করে নিজের পরিচিত একজনকে ঘর পাইয়ে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কৃষ্ণগঞ্জের বিডিও কামাল উদ্দিন সাহেবের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমি সরেজমিনে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। তদন্তের পর প্রমাণিত হয় ওই ব্যক্তির নিজস্ব দোতলা বাড়ি আছে মার্বেল দেওয়া এবং যে জায়গাটা দেখানো হয়েছে সেটা অন্য এক ব্যক্তির জায়গা। এই রিপোর্ট আসার পর আমরা বিডিও অফিসের পক্ষ থেকে শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাখি ঘোষের কাছে জবাব চেয়েছি।

জবাব দিতে গিয়ে প্রধান রাখি ঘোষ বলেন, যে আমার যে আপ্ত সহায়ক আছেন তারা যে রিপোর্ট এবং ছবি আমাকে দিয়েছেন তার ভিত্তিতে আমি ঘর দিয়েছি। পঞ্চায়েতে গেলে এ ব্যাপারে আপ্ত সহায়ক মৌসুমী ম্যাডাম জানান, আমরা সামান্য ছবি করি আমরা অন্য কিছু করি না ওই কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রধান। প্রধান নিজে ঐ বুথের মেম্বার। প্রধান সম্পূর্ণ ভাবে নিজ দায়িত্বে ঘর দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অশোক হালদার বলেন, পঞ্চায়েত সমিতি কোনও রকম প্রধান মন্ত্রীর আবাস যোজনা ঘরের দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়। এবং দুর্নীতিকে কোনও প্রশ্রয় দেয় না। আমরা তদন্ত করে দেখেছি এবং প্রধান যে বেআইনি কাজ করেছে তার জবাব চেয়েছি।

এ ব্যাপারে বিডিও কামাল উদ্দিন সাহেব বলেন, সরকারি দপ্তর থেকে নির্দেশ আসার পর যে ব্যক্তি প্রধান মন্ত্রীর আবাস যোজনার ঘর পেয়েছেন তার কাছ থেকে আমরা লিখিত আবেদন চেয়েছিলাম।

শ্যামল দাস জানান, আমায় প্রধান ঘর দিয়েছেন তাই আমি নিয়েছি। এখন কৃষ্ণগঞ্জ এলাকাজুড়ে তোলপাড় প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার ঘর নিয়ে।

বিডিও কামাল উদ্দিন সাহেব জানিয়েছেন, দুর্নীতির তদন্ত করে প্রমাণিত হয়েছে প্রধান অন্যায় করেছেন এবং আমরা শ্যামল কুমার দাসকে নির্দেশ দিয়েছি এক লাখ কুড়ি হাজার টাকা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ঘরের টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে। অন্যথায় পঞ্চায়েত আইন মেনে ব্যাবস্থা নেবে ব্লক প্রশাসন।

এ ব্যাপারে কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক আশীষ কুমার বিশ্বাস বলেন সর্বত্র দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। প্রকৃত প্রাপকরা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিবনিবাস তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। আমরা চাই অবিলম্বে প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *