জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২ জুন: মোটা অঙ্কের বিল। আর সেই বিলের পুরো টাকা দিতে না পারায় কোভিড মৃতদেহ আটকে রাখার অভিযোগ উঠল বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে প্রায় ৪০ ঘন্টা পর মৃতদেহ ছাড়তে সম্মতি হল বেসরকারি ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে কাঁকসার এক বেসরকারী হাসপাতালে।
প্রশ্ন উঠেছে, কোভিড মহামারিতে হাসপাতালের মানবিকতা নিয়ে।
ঘটনায় জানা গেছে, মৃত কোভিড রোগীর নাম উমারানী বারুই। বাঁকুড়ার সোনামুখির বাসিন্দা। পরিবার সুত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে কোভিড সংক্রামিত হওয়ায় কাঁকসার ওই বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল। সোমবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যু ঘোষণা করে। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চড়া একটি বিল ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। তার মধ্যে বিলের আর্ধেক টাকা মৃতার পরিবার জমাও দেয়। মৃত্যুর পর বাকি বাড়তি বিলের সম্পুর্ন টাকা দিতে সক্ষম ছিল না।
মৃতার ছেলে অতনু বারুই জানান, “চিকিৎসা চলাকালীন বিল জানতে চাইতাম। কিন্তু নানা অছিলায় বিল জানত না কর্তৃপক্ষ। তথাপি মাঝে বেশ কিছু টাকা জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এদিন অস্বাভাবিক বিল দেখে হতবাক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সামান্য কিছু কমিয়ে তাদের দাবিতে অনড় ছিল। মৃতদেহ ছাড়তে চায়নি। মঙ্গলবার আবারও আসতে বলা হয়েছিল। এদিনও বিলের সম্পুর্ন টাকা মিটিয়ে দিলে, তবেই মৃতদেহ ছাড়বে বলে জানায়।” তিনি বলেন, “কেভিড মৃতদেহ আটকে রেখে এধরনের আচরণ করবে বৃঝতে পারিনি। তাদের দাবি মতো বিলের টাকা দিতে অপারগ। তাই বাধ্য হয়ে দুর্গাপুর মহকুমাশাসক, পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ও পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি।”

ছবি: মৃতার ছেলে অতনু বারুই।
প্রশ্ন, কোভিড মৃতদেহ এভাবে আটকে রাখা যায় কি? মহামারিতে গোটা দেশ যখন ত্রস্ত। তখন বেসরকারী হাসপাতালগুলোর অমানবিক আচরণ ও অস্বাভাবিক বিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, বেসরকারি হাসপাতালগুলো মহামারি পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক বেড চার্জ ও ব্যবহৃত কিটের চার্জ নিচ্ছে। বিজেপি নেতা দীপ্তাংশু চৌধুরী বলেন, “রাজ্য সরকারের কোন নজরদারি নেই। সেই সুযোগে এই হাসপাতালগুলোর এই অমানবিক আচরণ। যার ফলে হাসপাতালগুলো মহামারিতেও ইচ্ছামত বিল নিচ্ছে। অস্বাভাবিক বিলে নাভিশ্বাস দশা হচ্ছে রোগীর পরিবারের।

পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক অশ্বিনীকুমার মাজি জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। এভাবে কোভিড মৃতদেহ আটকে রাখতে পারে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কোভিড গাইড লাইন মেনে মৃতদেহ ছাড়তে বলা হয়েছে। এবং বিলের বিষয়টি মানবিকতার সঙ্গে দেখতে বলা হয়েছে।” বেসরকারী হাসপাতালগুলির অস্বাভাবিক বিভিন্ন চার্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকারি তেমন কোন নির্দেশিকা নেই। মানবিকতার দিক দিয়ে নুন্যতম চার্জ বসানোর অনুরোধ করা হয়।” শেষ পর্যন্ত গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ প্রায় ৪০ ঘন্টা পর ওই কোভিড মৃতদেহ ছাড়তে রাজি হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

