আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ৩০ এপ্রিল: গীতাঞ্জলী প্রকল্পের বাড়ির বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ওই তৃণমূল নেতার স্ত্রী রত্না সাঁতরা আবার মুরারই ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল কংগ্রেস সদস্যা। টাকা নেওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মেইলের মাধ্যমে বিডিওকে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার নাম পরমানন্দ সাঁতরা। তাঁর বাড়ি বীরভূমের মুরারই ১ নম্বর ব্লকের রাজগ্রামে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাজগ্রাম পূর্ববাজারের বাসিন্দা লাইলি বিবিকে গীতাঞ্জলী প্রকল্পে বাড়ি দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। লাইলি বিবির স্বামী বাসিরুদ্দিন খানের একটি ঘুষ নেওয়া ভিডিও বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। এই ঘটনায় দলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি উচ্চ নেতৃত্বের নজরে এনেছেন তৃণমূল নেতা অচিন্ত ঘোষ। যদিও অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি পরমানন্দ সাঁতরার। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলাও সম্ভব হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাফেরা করা ভিডিওতে বসিরুদ্দিন খানকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘তার স্ত্রীর নামে গীতাঞ্জলী প্রকল্পের বাড়ির জন্য এসেছিলো এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা। তার মধ্যে ১৮ হাজার টাকা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার স্বামী পরমানন্দ সাঁতরা চেয়েছিলো। না দিলে বাড়ির টাকা ঢুকবে না বলেও ভয় দেখানো হয়। আমি পাথর খাদানের শ্রমিক। ভয়ে কোনো রকমে তিন দফায় ১৮ হাজার টাকা দিই’। বিষয়টি তৃণমূল নেতৃত্বের নজরে আসতেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
তৃণমূলের মুরারই ১ নম্বর ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষ বলেন, “ওই এলাকায় সংখ্যালঘু দুঃস্থ আট জন মহিলার নামে গীতাঞ্জলী প্রকল্পে বাড়ি এসেছিল। একমাত্র লাইলি বিবির স্বামীই ঘুষের অভিযোগ করছে। ঈদের পর আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করব। টাকা নিয়ে থাকলে ফেরত দিতে হবে। এর আগেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। আমরা সমস্ত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করেছি। এক্ষেত্রেও টাকা নিয়ে থাকলে ফেরত দিতে হবে”।

