প্রেমিকার ছেলেকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ প্রেমিকের বিরুদ্ধে, ডানকুনি থানার পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার

আমাদের ভারত, হুগলি, ৮ অক্টোবর: সুখের আশায় স্বামীর ঘর ছেড়ে প্রেমিকের হাত ধরে বেরিয়ে এসেছিল। প্রেমিকার নাম পূজা মণ্ডল। বাড়ি নিউ ব্যারাকপুরে। কিন্তু, কষ্ট দিল সেই প্রেমিকই। ষড়যন্ত্র করে সন্তানকে বিক্রি করে দিল সুজিত খান নামে ওই প্রেমিক। এমনটাই অভিযোগ প্রেমিকা পূজার। এই ঘটনায় পুলিশের দ্বারস্থ পূজা। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার নিউ ব্যারাকপুরের বিলকান্দার বাসিন্দা বাবু মণ্ডলের সঙ্গে বছর সাতেক আগে বিয়ে হয় পূজার। তাদের চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। সেই ছেলেকে নিয়ে মাস পাঁচেক আগে স্বামীর ঘর ছেড়ে সুজিত খান নামে এক যুবকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় পূজা। চলে আসে ডানকুনির মনোহরপুর মল্লিকপাড়ায়। সেখানেই একটি ঘর ভাড়া করে থাকতে শুরু করে তিনজন। পূজার দাবি, দিন চারেক আগে তার ছেলেকে বিক্রি করে দেয় সুজিত। চল্লিশ হাজার টাকায় আজিজুল নামে একজনকে বিক্রি করে দেয়। আজিজুল ওই শিশু সন্তানকে এক লাখ টাকায় এক নিঃসন্তান দম্পত্তির কাছে বেচে দেবে বলে ঠিক করে।

এদিকে, পূজার অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্তে নামে ডানকুনি থানার পুলিশ। ওই ঘটনায় আজিজুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। তাকে জেরা করে খুরশিদা বেগম নামে এক মহিলার খোঁজ পায় পুলিশ। চণ্ডীতলায় তার জিম্মাতেই ছিল শিশুটি। সেখান থেকেই শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির বাবা বাবু মণ্ডল জানিয়েছেন, মাস পাঁচেক আগে ওরা আমার বাড়ি থেকে চলে আসে। ছেলেকে নিয়ে ভালো থাকবে বলে ও ঘর ছেড়েছিল। তিনমাস আগে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তারপর যখন জানতে পারলাম ছেলেকে বিক্রি করে দিয়েছে তখন ডানকুনিতে এলাম। পুলিশের সাহায্য চাইলাম।

অন্যদিকে, পূজা মণ্ডল বলেন, যে ছেলেটা আমাকে ফাঁসিয়ে নিয়ে এসেছিল সে আমার সন্তানকে বিক্রি করে টাকা পয়সা নিয়ে চলে গিয়েছে। ওর নাম সুজিত খান। আমি ফেঁসে গিয়েছি। এখন আমি
আমার ছেলে ফেরত চাই।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। নিঃসন্তান কোনও দম্পতি শিশুটিকে কিনেছিল। তাদের খোঁজ চলছে। টাকা পয়সার লেনদেন কী হয়েছিল তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *