আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ২৬ ডিসেম্বর: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর বিলিতে স্বজন পোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ জলপাইগুড়ি পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। প্রতিবাদে গ্রামের একাধিক জায়গায় চলছে বিক্ষোভ। তিনটি জাগায় অবরোধ করে গ্রামবাসীরা।
এদিন জলপাইগুড়ি–শিলিগুড়ি জাতীয় সড়কের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ মোরে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন বাসিন্দারা। অন্যদিকে ঘর না পেয়ে পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এক ভিআরপি মহিলা কর্মীর বাড়ি ঘেরাও করল গ্রামবাসীরা। এছাড়া বালা পাড়ায় তিস্তা বাঁধের রাস্তা অবরোধে সামিল হলেন গ্রামবাসীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন।
গ্রামবাসীদের দাবি, যাদের পাকা বাড়ি রয়েছে সেই তৃণমূলের নেতাদের নামেও ঘর এসেছে। কিন্তু ঘর নেই ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করেন এরকম বাড়ি সমীক্ষা করেও ঘর দেওয়া হয়নি। প্রতিবাদে তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে আন্দোলনে নামলেন সাধারণ মানুষ।

পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সঞ্জয় নগর কলোনির বাসিন্দাদের অভিযোগ, যাদের পাকা বাড়ি রয়েছে তারা ঘর পেয়েছেন। যারা প্রকৃত প্রাপক তারা বঞ্চিত। প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বাসিন্দারা। অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কে আটকে পড়েছে যানবাহন। প্রায় একঘন্টা অবরোধ চলার পর পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বাসিন্দারা।
গ্রামবাসী পিংকি মাঝি বলেন, “আমি ত্রিপলের নিচে থাকি। আমার নাম নেওয়া হয়েছে এরপরেও ঘর পাইনি। যে সমীক্ষা করেছে তার বাড়ি ঘেরাও করেছি।” আরও এক বাসিন্দা সোমা সরকার বলেন, আমার ঘরের দরকার আমি পেলাম না। ঘর নিয়ে দুর্নীতি ও কাটমানি হয়েছে। আমি তৃণমূল করি, তৃণমূলের নেতারাই দুর্নীতি করেছে। সমীক্ষা বাতিল করা হোক।”
বালা পাড়ার বাসিন্দা আলফা খাতুন বলেন, “ভাঙ্গা ঘর তারপরেও ঘর পেলাম না৷ তৃণমূল করি, অথচ সেই তৃণমূল এরকম করছে। ঘর না পেলে ভোট বয়কট করব। এখন তো শরীরে আগুন জ্বলছে, মনে হচ্ছে ওই নেতাদের মেরে ফেলি।”

পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভিআরপি বেবি ঘোষ বলেন, “আমি যেসব নাম পাঠিয়েছি প্রকাশিত তালিকায় তার কারও নাম নেই। এখন আমাদের ফল ভোগ করতে হচ্ছে। প্রধান ও উপপ্রধানকে জানিয়েছি।”
পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বেণুরঞ্জন সরকার সাফাই দিয়ে বলেন, “প্রথম ধাপে নাম এসেছে। এগুলো ২০১৮ সালের। অনেকের সেই সময় কাঁচা বাড়ি ছিল এখন হয়ত পাকা হয়েছে। সরকারি ভাবে ঘর বিলি হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘর নেই যাদের তাদের নামে আসবে। এখানে গ্রাম পঞ্চায়েতের কোন ভুমিকা নেই।”

