জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২২ এপ্রিল: বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশী ছাত্রীকে সহবাস। দিনের পর দিন শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ। এমনই অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেও, মমলার ধারা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। যার দরুন অনায়সে জামিনে মুক্ত হয়ে যায় অভিযুক্ত অধ্যাপক। চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাংলাদেশ হাইকমিশনারের দ্বারস্থ নির্যাতিতা। শনিবার ঘটনার তদন্তে দুর্গাপুরে সরকারি হোস্টেলে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্য মহিলা কমিশন।
ঘটনায় জানাগেছে, বাংলাদেশের ওই ছাত্রী আসানসোল কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতোকত্তর বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তাঁর সঙ্গে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের আজাজুল আলি খান নামে অধ্যাপকের প্রণয়ের সম্পর্ক হয়। অভিযোগ, অভিযুক্ত অধ্যাপক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছাত্রী’র সঙ্গে বেশ কয়েক মাস সহবাস ও শারীরিক নিগ্রহ করে। গত মার্চ মাসের শেষের দিকে ওই ছাত্রীর সঙ্গে দূরত্ব শুরু করে অধ্যাপক। এবং অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত আছে বলে ছাত্রীটিকে জানিয়ে দেয়। আর তাতেই ভেঙে পড়ে ছাত্রীটি। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ওই নির্যাতিতা ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আসানসোল মহিলা থানার পুলিশকে এই বিষয়ে অবগত করেন। কিন্তু তাতে কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ। শেষমেশ বিচারের জন্য ছাত্রীটি বাংলাদেশ হাইকমিশনারের দ্বারস্থ হয় এবং দুর্গাপুর মহিলা থানায় অধ্যাপকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তারপরই নির্যাতিত ছাত্রীর মেডিকেল হয়। এবং অভিযুক্ত অধ্যাপক গ্রেফতারও হয়। কিন্তু, গ্রেফতার হয়েও জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়।
এদিকে শনিবার ঘটনার তদন্তে দুর্গাপুর সিটিসেন্টারে হোস্টেলে ছাত্রীটির সঙ্গে দেখা করতে আসেন রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা। মহিলা কমিশনের পক্ষে দেবযানী চক্রবর্তী জানান, “মেয়েটির সঙ্গে কথা হয়েছে। অভিযোগ শুনেছি। ঘটনায় মেয়েটি প্রমাণস্বরূপ যা কিছু দাখিল করেছে, সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ কোন ধারায় মামলা করেছে। কোন ধারায় গ্রেফতার হল। জামিনে কেন ছাড়া পেল সবই রিপোর্ট চেয়েছি। আরও কোন ধারায় মামলা দেওয়া ও গ্রেফতার করা যায়, সেসব দেখা হচ্ছে। পুলিশ সর্বক্ষন নিরাপত্তায় রয়েছে। অভিযুক্ত যাতে শাস্তি পায়, মেয়েটি যাতে বিচার পায় তার চেষ্টা চলছে।”

