জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৫ এপ্রিল: ভালো মাইনের কাজ পাওয়ায় পুরনো চাকরি ছেড়ে দেওয়ার মাশুল। চুরির অপবাদ দিয়ে মোবাইল কেড়ে তালবন্ধ করে পুরনো কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠল হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, মাথা ন্যাড়া করে অমানবিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। শুক্রবার রাতে দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় এমনই অমানবিক হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী রইল শিল্পশহর। আক্রান্ত রাজীব ভট্টাচার্য নামে ওই যুবক সুবিচারের দাবিতে পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্ত হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনায় জানাগেছে, রাজীব ভট্টাচার্য দুর্গাপুর পুরসভার ১ নং ওয়ার্ডের ধোবিঘাট এলাকার বাসিন্দা। তার মা সুমনা ভট্টাচার্য বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার মহিলা মোর্চার জেলা ভাইস প্রেসিডেন্ট। বছরখানেক ধরে রাজীব ভট্টাচার্য দুর্গাপুরের মুচিপাড়ার এক হোটেলে কাজ করত। সাম্প্রতিক অন্য একটি হোটেলে ভালো মাইনের সুযোগ পাওয়ায় ওই কাজ ছেড়ে দেয়। এবং নতুন ওই হোটেলের কাজে যোগ দেয়। রাজীবের মা সুমানাদেবী অভিযোগে বলেন, পুরনো ওই হোটেলের মালিক আইকার্ড, ব্যাগ, ডাইরি ফেরত দেওয়ার জন্য বলেছিল। সেই মত শুক্রবার সন্ধ্যায় সময় করে মুচিপাড়ার ওই হোটেলে দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যায়। সেখানে সব ফেরত দেওয়ার পর আচমকা হোটেল মালিক হিরন্ময় দাস ও তার ছেলে রাজীবকে মারধর শুরু করে। টেনে হিঁচড়ে হোটেলের পিছনে নিয়ে যায়। সেখানে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মোবাইল কেড়ে হোটেলের কয়েকজন কর্মীদের নিয়ে নগ্ন করে নির্মম ভাবে মারধর শুরু করে। আমার ছোটো ছেলে বাঁচাতে গেলে, তাকেও মারধর শুরু করে। দুই ছেলেকে মারতে দেখে রাস্তায় এসে আর্তনাদ শুরু করি। কিন্তু, বাইরের লোককে হোটেলে ঢুকতে বাধা দেয়। তালা বন্ধ করে রাখে। আমার ছেলে রাজীবের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে অমানবিক নির্যাতন করে।”
তিনি আরও বলেন, “তারপর খবর দিই পুলিশে। খবর পেয়ে মলানদিঘি ফাঁড়ির পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এবং ওই হোটেল মালিকের কঠোর শাস্তির দাবিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।” এদিকে ঘটনায় অসুস্থ ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে রাজীব ভট্টাচার্য।
যদিও এবিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে হোটেল মালিক হিরন্ময় দাস পাল্টা দাবি করে বলেন, “গেটের বাইরে চুরি করার বিষয় জানতে পেরে জনতা মারধর করেছে। চুল কেটে দিয়েছে। আমি উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।” যদিও গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাঁকসা থানার পুলিশ।

