কাঁকসায় অবৈধভাবে বালি মজুতের অভিযোগ, ধৃত বালি কারবারি

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২০ সেপ্টম্বর: অবৈধভাবে বালি মজুতের অভিযোগ। আসানসোলের নিয়ামতপুর থেকে এক বালি কারবারিকে গ্রেফতার করল কাঁকসা থানার পুলিশ। ধৃতের নাম অজয়প্রতাপ সিং ওরফে পাপু। সোমবার তাকে দুর্গাপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিন খারিজ করে দেন। 

প্রসঙ্গত, রাজ্যে তৃতীয়বার তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর, অবৈধ বালি পাচারের বিরুদ্ধে সক্রিয়ে হয়েছে সরকার। গত দু’মাস ধরে লাগাতার অভিযান চলছে বিভিন্ন বালিঘাট ও রাস্তার ওপর। ধরাও পড়েছে বেশ কিছু বালি মাফিয়া ও অসাধু বালি কারবারি। আটক হয়েছে বেশ কিছু লরি, ডাম্পার। সম্প্রতি অবৈধ বালি মজুতের ওপর যৌথ অভিযান শুরু করে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। তাতে কাঁকসা থানা এলাকায় অজয় ও  দামোদর নদী তিরবর্তী ৪-৫ জায়গায় অবৈধ বালি মজুতের রিপোর্ট হয় জেলা ভুমি রাজস্ব দফতরে।

মজুত বালি কার, সে নিয়ে খোঁজ খবর শুরু হয় এবং বালির পরিমান অনুযায়ী জরিমানা দেওয়ার নির্দেশিকা হয়। ভুমি রাজস্ব দফতর সুত্রে জানা গেছে, গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দিশিকা অনুযায়ী বর্ষায় নদী থেকে বালি তোলা নিষিদ্ধ। কিন্তু বৈধ বালি ব্যাবসায়ীরা এপ্রিল- মে মাস থেকে ব্যবসা চালানোর জন্য নদী তিরবর্তী জায়গায় বালি মজুত করে। জানা গেছে, এই বালি মজুতের জন্য জেলা ভুমি রাজস্ব দফতরে মজুত রাখা জমির ছাড়পত্র সহ অনুমতি নিতে হয়। সেই মত মজুত বালির পরিমান অনুযায়ী ১৬৫ টাকা প্রতি ১০০ সিএফটি বালির রয়ালটি ধার্য হয় এবং সেটা জমা দেওয়ার পর ভুমি রাজস্ব দফতর চালান ইস্যু করে। তবে ওই বালি অবশ্যই বৈধ বালিঘাট থেকে তোলা হতে হবে। কাঁকসা ব্লক ভুমি রাজস্ব দফতর সুত্রে জানা গেছে, গত মে-জুন মাসের সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী  ব্লকে বসুধা এলাকায় একটি মাত্র বালি মজুতের অনুমতি আছে। 

প্রশ্ন, এছাড়াও কাঁকসার দেউল, সাতকাহানিয়া, কোটালপুকুর, সিলামপুরের আইমা ঘাট এলাকায় প্রচুর বালি মজুত রয়েছে। সব মিলিয়ে অবৈধ বালি মজুতের পরিমান কয়েক লক্ষ সিএফটি। তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনি প্রক্রিয়া হয়নি কেন? জানা গেছে, অবৈধ মজুত বালির পরিমানের ওপর রয়েলটির দেড়গুন জরিমানা হয়। কাঁকসা ভুমিরাজস্ব দফতর সুত্রে জানা গেছে, কিছু জরিমানার কিস্তি জমা পড়েছে।

সম্প্রতি কাঁকসার সাতকাহানিয়া এলাকায় একটি অবৈধ বালি মজুতের অভিযোগ জমা পড়ে পুলিশে। তার ভিত্তিতে পুলিশ ওই মজুত বালির মালিকের তল্লাশি শুরু করে। রবিবার রাত্রে আসানসোলের নিয়ামতপুর থেকে অজয়প্রতাপ সিং নামে ওই বালি কারবারিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গেছে, সাতকাহানিয়ায় অজয় নদীতে লিজে নেওয়া একটি বালিঘাট রয়েছে। কিন্তু মজুত করা বালির কোন অনুমতি ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে, ৪৮ হাজার সিএফটি বালি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আদালতে ৭ দিনের হেপাজতে চাওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে।”  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *