আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ৪ ডিসেম্বর: ফের রাজস্ব আদায়ের নামে তোলাবাজিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রামপুরহাট। এনিয়ে তোলা আদায়কারীদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের হাতাহাতি পর্যন্ত বেধে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর লেখা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে।

বীরভূম জেলার পাথর শিল্পাঞ্চলে ছয় জায়গায় রাজস্ব আদায়ের নামে টোল গেট রয়েছে। ওই গেট গুলিতে সরকারিভাবে জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের কর্মীদের রাজস্ব আদায়ের নিয়ম। কিন্তু সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক শ্রেণির তৃণমূল কর্মীরা জোর করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে চলছিল। ২১ মার্চ তৃণমূলের ভাদু শেখের খুনের পর কিছু দিন বহিরাগত দিয়ে রাজস্ব আদায় বন্ধ ছিল। ১ জানুয়ারি থেকে ফের সেই তোলাবাজি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ। এরই প্রতিবাদে বুধবার বিকেল থেকে রামপুরহাট ঝনঝনিয়া বাইপাস রাস্তার গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান পাথর ব্যবসায়ী থেকে লরি মালিকরা। তাদের দাবি, অবৈধভাবে টোল আদায় করছে কিছু সমাজ বিরোধী। তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থাকায় পুলিশও তাদের মদত দিচ্ছে। পাথরব্যবসায়ী এবং লরি মালিকদের আন্দোলনের জেরে এদিন বিকেল থেকে তোলা আদায় বন্ধ হয়ে যায়।

পাথর ব্যবসায়ী মহম্মদ আজিজ বলেন, “এখানে রাজস্ব আদায়ের নামে কিছু মানুষ নকল চালান দিয়ে মোটা অঙ্কের তোলা তুলছে। তাছাড়া এটা রাজস্ব আদায়ের গেট নয়, এটা ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিপ্ট) গেট। কিন্তু এখানে ভূমি রাজস্ব আধিকারিকদের বসিয়ে রেখে তোলাবাজি করা হচ্ছে। আমরা এই তোলাবাজি মানব না”।

একই বক্তব্য মহম্মদ হুমায়ূন কবিরের। তিনি বলেন, “আমার লরিতে করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পাথর নিয়ে যাওয়া হয়। আগে সরকারিভাবে ডিসিআর কাটা হত। কিন্তু এখানে ডিসিআরের নামে তোলা তুলছে কিছু লোক। টন পিছু দুশো টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যে চালান দেওয়া হচ্ছে সেটা মুদিখানার রশিদ। কারণ ওই চালান অন্য জেলা মানতে চাইছে না। ফলে সেখানেও ফাইন দিতে হচ্ছে। আমরা এভাবে তোলাবাজি করতে দেব না”।
ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের কর্মী বিমল দাস বলেন, “আমাদের অফিস থেকে এখানে পাঠানো হয়েছে। আমরা চুপচাপ বসে রয়েছি। ডিসিআর কাটছে কিছু বহিরাগত লোকজন। এখানে আমাদের কিছু করার নেই”।

