আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১০ জুন: তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী ওমপ্রকাশ যাদবকে পিস্তলের বাঁট দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানোর অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। আর এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব ফের একবার প্রকাশ্যে চলে এলো। বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা।
জগদ্দল থানার অন্তর্গত ভাটপাড়া পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আতপুর শাস্ত্রীনগর এলাকায় এক দল দুষ্কৃতীর হাতে আক্রান্ত হন তৃণমূল কর্মী শাস্ত্রীনগর সেবা সমিতির সম্পাদক ওমপ্রকাশ যাদব। আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী ওমপ্রকাশ যাদবের অভিযোগ, শ্যামনগর থেকে কিছু দুষ্কৃতি দলবল নিয়ে হানা দেয় শাস্ত্রীনগর সেবা সমিতির সামনে। জোর করে তাকে আটোতে তুলে নেবার চেষ্টা চালায় দুষ্কৃতীরা। যেতে অস্বীকার করলে পিস্তলের বাঁট দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটায় বলে অভিযোগ। ওইদিন রাতেই ওমপ্রকাশ যাদব জগদ্দল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ পুলিশে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কাউকেই পাকড়াও করেনি।
তবে এলাকায় অর্জুন সিং ঘনিষ্ঠ ওম প্রকাশ যাদবের ওপর দুষ্কৃতী হামলার ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা। দুষ্কৃতীরা জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের লোক বলে অভিযোগ উঠছে। অর্জুন সিং সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। তার সাথেই তার অনুগামীরা অনেকেই বিজেপি ছেড়ে দিয়েছে। আর এই মারধরের ঘটনায় ফের একবার প্রকাশ্যে চলে এলো তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব। ফলে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপনউতর।
আক্রান্ত ওম প্রকাশের অভিযোগ, তিনি অর্জুন সিংয়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের লোকজন তাকে মারধর করেছে।
অপর দিকে এদিন অর্জুন সিং ঘনিষ্ট আরেক নেতা সঞ্জয় সিং আক্রান্ত ওই তৃণমূল নেতাকে পাশে বসিয়ে বলেন, “ব্যারাকপুর কেন্দ্রের সাংসদ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তা মানতে পারছেন না এলাকার অনেকেই। বিশেষ করে তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম লোক দিয়ে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। আসলে এরা সব অসামাজিক কাজে যুক্ত। অর্জুন সিং এবং তার অনুগতরা এর প্রতিবাদ করায় তাদেরকে মারধর করে ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করার চেষ্টা হচ্ছে।
অপর দিকে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর বিপ্লব মালো এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। উল্টে তার দাবি, “সাংসদ তৃণমূলে ফিরতেই এলাকায় চমকাতে শুরু করে ওমপ্রকাশ। স্থানীয় এক যুবককে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে কয়েকদিন পুলিশি হেফাজতে থাকার পর জামিন পায়। ফের হয়তো এলাকায় তান্ডব করে। তার জেরেই মারপিটের ঘটনা। আর যারা অভিযোগ করছেন তারা তো বিজেপি করেন তাদের তো তৃণমূলে নেওয়াই হয়নি।
তার দাবি, এটা কোনও গোষ্ঠী কোন্দলের বিষয় নয়। আর সোমনাথ শ্যাম এসবের সাথে কোনো ভাবে জড়িত নেই।” তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন তর্জা।

