Budget, AITF, কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘দূরদর্শী’ বলে স্বীকৃতি অখিল ভারতীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের

আমাদের ভারত, ২ ফেব্রুয়ারি: শিক্ষা ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘দূরদর্শী’ এবং এতে শিক্ষা, উদ্ভাবন, অন্তর্ভুক্তি এবং কর্মসংস্থানকে ‘সংযুক্তকারী বাজেট’ বলে চিহ্ণিত করল অখিল ভারতীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (বিদ্যালয় শিক্ষা)।

স্বাগত জানিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামানিক লিখেছেন, “এই বাজেট শিক্ষাকে ডিগ্রি-কেন্দ্রিক কাঠামোর বাইরে নিয়ে গিয়ে গবেষণা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ণ এবং উদ্ভাবনের সাথে সংযুক্ত করেছে। শিক্ষা খাতের জন্য ১.৩৯ লক্ষ কোটি টাকার একটি ঐতিহাসিক বরাদ্দ করা হয়েছে। মহাসঙ্ঘের বিশ্বাস  এই ৮.২ শতাংশ বৃদ্ধি ‘বিকশিত ভারত’-এর প্রতি সরকারের অঙ্গীকারকে দৃঢ়ভাবে শক্তিশালী করবে।

বর্তমান বাজেটে স্কুল শিক্ষার জন্য ৮৩,৫৬২.২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬.৩৫ শতাংশ বেশি, এবং উচ্চশিক্ষার জন্য ৫৫,৭২৭.২২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ১১.২৮ শতাংশের একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। গত পাঁচ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা খাতে ব্যয় ২০২১ অর্থবছরের ৮৪,২১৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে চলতি বছরে ১.৩৯ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা শিক্ষা খাতের প্রতি নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে। মহাসঙ্ঘ এটিকে জাতীয় শিক্ষানীতি (এন ই পি) ২০২০-এর উদ্দেশ্যগুলোর একটি পুনঃনিশ্চয়তা হিসেবে দেখছে।

১৫,০০০ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৫০০ কলেজে এভিজি সি (অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং এবং কমিকস) কন্টেন্ট ল্যাব স্থাপনের ঘোষণাটি তরুণদের ডিজিটাল ও সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রধান শিল্প ও লজিস্টিক করিডোরের কাছে পাঁচটি সমন্বিত বিশ্ববিদ্যালয় টাউনশিপ স্থাপনের প্রস্তাবটি শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষতা এবং শিল্পের মধ্যে সংযোগকে আরও শক্তিশালী করবে।

একইভাবে, প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে মেয়েদের হোস্টেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত, যার জন্য প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা উচ্চশিক্ষায় মহিলাদের অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা এবং ধারাবাহিকতা বাড়ানোর জন্য একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বাজেটে চলতি বছরে ১০,০০০ নতুন মেডিকেল আসন চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে ৭৫,০০০ আসন যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়াও, তিনটি নতুন সর্বভারতীয় আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠান স্থাপন, ১.৫ লক্ষ পরিচর্যাকারীকে প্রশিক্ষণ এবং ১০টি নতুন সহযোগী স্বাস্থ্য শাখা চালু করার মাধ্যমে স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। প্রস্তাবিত ‘শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ স্থায়ী কমিটি’ শিল্প, প্রযুক্তি, পরিষেবা এবং উদ্ভাবনের চাহিদার সাথে পাঠ্যক্রমকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার মাধ্যমে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ব্যবধান পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অখিল ভারতীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ আশা করে যে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য-স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক পদ পূরণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় সহায়তা পাবে, যাতে জাতীয় শিক্ষানীতিকে তার প্রকৃত চেতনায় বাস্তবায়ণের সম্মিলিত সংকল্প সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হতে পারে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *