আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৬ মে: সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় গ্রামের পর গ্রাম ভেসে গেল যস ঘুর্নিঝড়ের সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে। সমুদ্র বাঁধ উপচে ১২/১৪ ফুট উচুঁ জল সুনামির মতো ভাসিয়ে দিল উপকূলবর্তী সব গ্রাম। দেশপ্রাণ, কাঁথি-১, রামনগর-১ ও ২, খেজুরী-২, নন্দীগ্রাম-১ ব্লকসমূহ সহ হলদিয়া এলাকায় জলোচ্ছ্বাসে জনজীবন বিপর্যস্ত ও আর্থিক ক্ষতি চরমে। যস ঘূর্ণিঝড়ের থেকেও এলাকায় বেশী ক্ষতি হয়েছে কোটাল ও সমুদ্রের জল ফুলে ফেঁপে উঠার ফলে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে। অনেক জায়গায় সমুদ্র বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে লোকালয়ে জল ঢুকে একতলা বাড়িপর্যন্ত প্লাবিত হয়েছে। কয়েকশত কোটি টাকার মাছের ভেড়ি জলের তলায়। চাষবাস, ফসল, আনাজ-সব্জী, ফলের বাগান, পানবরোজ, পুকুর, নার্সারি সবই জলের তলায়।

কয়েকলক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ। দীঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর, মান্দারমণি, শৌলা, বগুড়ানজলপাই, জুনপুট, বাকীপুট, দারিয়াপুর, পেটুয়া, দহসোনামুই, রসুলপুর, নিজকশবা, হিজলী, পাঁচুড়িয়া, খেজুরী, ভাঙ্গাবেড়া, কেন্দেমারী, হলদিয়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন।

প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি মামুদ হোসেন বলেন, সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত, অর্থনীতি ও জনজীবন বিপর্যস্ত। মৎস্য চাষীদের ক্ষতিপূরণ সহ ফসল, আনাজপত্র, পানবরোজ, গবাদিপশু, নার্সারির ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিপূরণ, ঘরবাড়ির মেরামতির অনুদান, ক্ষতিগ্রস্থ মানুষজনের জন্য ত্রিপল, খাদ্যসামগ্রী ও পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ করার লক্ষে জেলার দুই মন্ত্রী ডঃ সৌমেন মহাপাত্র ও অখিল গিরিকে ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছেন প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি মামুদ হোসেন। সেই সাথে জেলাশাসককে দুর্গত মানুষদের উদ্ধার কার্য ও পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী দেওয়ার আবেদন জানান মামুদ হোসেন।


