অর্থলগ্নি সংস্থার টাকা ফেরতের দাবিতে শুক্রবার সারা বাংলা প্রতিবাদ দিবসের ডাক অল বেঙ্গল চিট ফান্ড সাফারার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের

আমাদের ভারত, ৫ মে: অর্থলগ্নি সংস্থার টাকা ফেরতের দাবিতে শুক্রবার সারা বাংলা প্রতিবাদ দিবসের ডাক দিল অল বেঙ্গল চিট ফান্ড সাফারার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।

বৃহস্পতিবার সংগঠনের রাজ্য সভাপতি রূপম চৌধুরী এই প্রতিবেদককে এ খবর জানিয়ে বলেন, “শুধু সারদা নয় সব কোম্পানির সকল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের টাকা ফেরতের ঘোষণা অবিলম্বে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে করতে হবে। রাজ্যের থানায় থানায়, ডিএম অফিসে বিক্ষোভ, অবস্থান হবে। সেই সঙ্গে সেবি, প্রধানমন্ত্রী, রাজ্য পাল, মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া হবে স্মারকলিপি।

২০১৩ সালে সারদা অর্থ লগ্নি সংস্থার বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে শুধু এরাজ্য নয়, সারা দেশে অর্থ লগ্নি কোম্পানির কেলেংকারী দেখা দেয়। কিছুদিনের মধ্যে দেশের মানুষের সামনে আসে স্বাধীনতার পর সর্ববৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারি। এরাজ্য সহ সারাদেশে আর্থিক সুনামির চিত্র প্রতিভাত হলো। রাজ্যে ২ কোটির অধিক মানুয ক্ষতিগ্রস্থ হন। দেশে ৩০/৩২ কোটি মানুষের ৭ লাখ কোটি টাকা লুঠ হোল।

শুধু কয়েকটি কোম্পানির উদাহরণ দিলে টাকা লুঠের ভয়ংকর চিত্র সকলের সামনে আসবে। পিএসিএল ৪৫ হাজার কোটি টাকা (সদর দফতর চন্ডীগড়), এ্যালকেমিষ্ট ২২ হাজার কোটি টাকা (সদর দফতর কলকাতা), রোজ ভ্যালি ২২ হাজার কোটি টাকা (সদর দফতর কলকাতা), সারদা ১২ হাজার কোটি টাকা (সদর দফতর কলকাতা), অমৃত ২০ হাজার কোটি টাকা (সদর দফতর গুয়াহাটি)। এছাড়া এরাজ্য ও সারা দেশে আনুমানিক ১০১২ টি ছোট বড় কোম্পানি টাকা লুঠেছে।

অত্যন্ত বিস্ময়কর ১৯৯০ সালে কোম্পানিগুলি টাকা তোলা শুরু করে। সেবি, ইডি, রাজ্যের কোনও সংস্থা এগুলো বন্ধ করা বা কোনে বিধিনিষেধ বা জনগনকে সতর্ক করেনি। এরা কোনও ভূমিকা পালন করেনি। ২০১৪ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত শুরু করে অতলে তলিয়ে যাচ্ছে। ১৫৪ টি কোম্পানির তদন্ত শুরু হয়েছে। কোম্পানিগুলি সুপ্রিম কোর্টের ও কলকাতা সহ বিভিন্ন রাজ্যের হাই কোর্টের টাকা ফেরতের কোনও নির্দেশ কার্যকর করেনি। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন মাননীয় প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর এই সর্ববৃহৎ কেলেংকারীর রহস্য উন্মোচন করতে উদ্যোগী হয়ে মন্তব্য করেছিলেন অর্থ লগ্নি সংস্থাগুলোর মামলা একশো বছরেও সমাধান হবে না।

৯ বছর হতে চললো, ওনার কথাই সত্যি বলে পরিগণিত হচ্ছে। এর সাথে সম্প্রতি আবার নতুন করে প্রতারণার ফাঁদ পেতে লিজা ও সুরানা সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩ হাজার কোটি টাকা লুঠ করেছে। যা সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। আমরা বার বার রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার ও তদন্ত সংস্থাকে জানানো সত্বেও কোনো পদক্ষেপ বা দেশের মানুষকে সতর্ক করেনি। আমাদের সংগঠন দৃঢ়ভাবে মনে করে সরকার গুলোর বিরাট অংশ এই লুঠের ও প্রতারণার ক্রিয়াকলাপের সাথে যুক্ত।

আমাদের কাছে বহু তথ্য, প্রমাণ নির্মম সত্যকে তুলে ধরেছে। আরও বিস্ময়কর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আশ্চর্যজনকভাবে মাটিতে মুখ ও চোখ ঢুকিয়ে রেখেছে। আর তদন্ত সংস্থাগুলো মাঝে মাঝে শীত ঘুম থেকে তৎপর হয়,
আবার রহস্য জনক ভাবে নীরব হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী ২০১৯ সালে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সাথে নতুন করে প্রতারণা করলেন। ইতিমধ্যে শত শত মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুর মুখে। আমাদের সংগঠন আগামী মে, জুন মাসে কলকাতা ও দিল্লিতে অবস্থান,পরিবার সহ অনশন, আমরণ অনশন ও প্রয়োজনে উভয় জায়গায় আত্মহত্যা করার কর্মসূচি গ্রহণ করবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *