আমাদের ভারত, ২৮ ফেব্রুয়ারি: কোচবিহার সফরে এসে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মন্ত্রী ও দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহকে তীব্র কটাক্ষ করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “সব ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে। নিউটনের এই সূত্র হয়তো তিনি পড়েননি কিংবা পড়লেও ভুলে গিয়েছেন। সময় এলে আমরা ওনাকে তা মনে করিয়ে দেব।”
শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের কনভয়ে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিনহাটা। তার কনভয়কে কেন্দ্র করে গুলি বোমা ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে সেদিন রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল দিনহাটায়। সেই ঘটনার পর একাধিক বিজেপি কর্মীর বাড়ি ভাঙ্গচুর ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার দিনহাটায় গিয়ে সেই সব কর্মীদের বাড়িতে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তার সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক, বিধায়ক মিহির গোস্বামী সহ অনেকে। তৃণমূলে নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে সুকান্ত মজুমদারের হুঁশিয়ারি, “এখনো সময় আছে শুধরে যান না হলে এমন ব্যবস্থা করব শুধরানোর আর সময় পাবেন না।”
আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে রাজ্যের ৩৫৬ ধারা জারি প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ম মেনে চলে। বিজেপি সাংগঠনিকভাবে এর জবাব দেবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরানো হবে।
এরপরই পুলিশের ভূমিকাকে কটাক্ষ করে রাজ্য বিজেপির সভাপতি বলেন, “আমাদের যেরকম সাতটি মোর্চা রয়েছে, তেমন তৃণমূলেরও একটা মোর্চার নাম পুলিশ মোর্চা বা খাকি মোর্চা বা মামা মোর্চা। তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা ওদের নেই। এখানকার এসপি পায়জামা পাঞ্জাবি পরে তৃণমূলের হয়ে ঝান্ডা ধরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জিন্দাবাদ বলা বাকি আছে। উনি তো তৃণমূলের পার্টি অফিসে গিয়ে বসতে পারেন।”
শনিবার দিনহাটায় গিয়ে কালমাটি গ্রামের বিজেপির একাধিক নেতা কর্মীর বাড়িতে ভাঙ্গচর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেখানে দেখা করতে যান সুকান্ত সহ বিজেপি নেতৃত্ব। আক্রান্ত দলীয় নেতা কৃষ্ণকান্ত বর্মনের বাড়িতেও যান তারা।

