আমাদের ভারত, ২৪ জুন: কোনো দিন কাগজ কুড়িয়ে কিংবা কোনো দিন শুধুমাত্র পথের ধারে ভিক্ষা করে পেট চালাতে হতো। বাড়ি বলতে কিছুই নেই। মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে বস্তির একটা ৮X৮ এক চিলতে ঘর। সেখানে টিমটিম করে জ্বলে হারিকেনের আলো। কিন্তু এত কষ্টের মধ্যে থেকেও দেশের সেবায় অগ্নিবীর হওয়ার স্বপ্ন দেখছে বছর ১৭-র শের আলি। মাধ্যমিকে ৬০ শতাংশের উপর নম্বর পেয়েছে সে।
মাত্র ১৭ বছর বয়সেই আলি বস্তির চল্লিশটি পরিবারের আইডিয়াল হয়ে উঠেছে। সে যেখানে বড় হয়েছে সেখানে সকলেই কাগজ কুড়ায় তারপর তা বিক্রি করে কোনো রকমে সংসার চালায়। পড়াশোনার পরিসর থেকে বহু বহু দূরে এই পরিবারগুলো। কিন্তু সেখান থেকে বোর্ডের পরীক্ষায় ভালো ফল করে উঠে এসেছে শের আলি।
উত্তরপ্রদেশের আগ্রার বস্তিতে আট ভাই বোনের সংসারে বড় হয়েছে আলি। ঘরে বিদ্যুৎ নেই। কোনো দিন খাবার জুটত, কোনো দিন না খেয়ে কাটিয়ে দিতে হতো। কিন্তু আলির মধ্যে বেশ কিছু গুণ ও পড়াশোনার প্রতি চুড়ান্ত আগ্রহ চোখে পড়েছিল সমাজ কর্মী নরেশ পারসের। তিনি আলিকে এই পরিবেশ থেকে বের করে স্কুলে ভর্তি করেন।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে বস্তিতে আলি থাকে সেখানে প্রতিটি পরিবার কাগজ কুড়ানোর কাজ করে। শুধু বাড়ির বড়রাই নয়, পরিবারের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কাগজ কুড়ায়। ফলে ওই ছোট্ট ছেলে মেয়েদের কাছে পড়াশোনা অলীক কল্পনার মত। কিন্তু সেখান থেকে পারসের হাত ধরে পড়াশোনার জগতে ঢুকে পড়ে আলি। এবছর উত্তরপ্রদেশের দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ৬৩ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করেছে আলি। ইংরেজিতে ১০০-র মধ্যে ৮০ পেয়েছে সে।
আলির বাবার কথায় কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করেছে তার ছেলে। বস্তির সব বাচ্চার কাছে আলি আজ অনুপ্রেরণা।
আলির মা জানিয়েছেন, কোনো দিন খাবার জুটতো কোনো দিন বা জোটেনি, কিন্তু পড়াশোনা একদিনও বাদ দেয়নি আলি। কোনো দিন শুধুমাত্র জল খেয়েই পড়াশোনা চালিয়ে গেছে আলি। ওর চোখে অনেক অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন।
শুধু পড়াশোনায় নয় অ্যাথলেটিকে জেলা ও রাজ্যস্তরে অনেক পদক জিতেছে আলি। পরীক্ষায় এই ফল আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে তার। আলি চায় দেশের সেবা করতে। সে চায় অগ্নিবীর হয়ে সেনায় যোগ দিতে।

