জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৪ জুন: বিহার-ঝাড়খন্ডে বর্ষণ। আর তার জেরে বর্ষার শুরুতেই নদীতে হড়পা বান। আর ওই জলের তোড়ে ভেঙ্গে পড়ল অজয় নদীর ওপর তৈরী অস্থায়ী রাস্তা। আর তাতেই একপ্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভুমের বেশ কিছু গ্রামের। দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
কাঁকসার শিবপুরের অজয় নদের অপরপ্রান্তে বীরভুমের জয়দেব কেঁন্দুলী। মকরসংক্রান্তির মেলা ছাড়াও সারা বছরই হাটবাজার সহ অন্যান্য কাজে দুই জেলার মানুষের যোগাযোগ রাস্তা ছিল অজয় নদের ওপর দিয়ে। প্রতিবছরই বর্ষার জল নামলেই সিমেন্টের পাইপ বসিয়ে পাথর, মোরাম, মাটি দিয়ে রাস্তাটি তৈরী হয়। লাল মাটির ধুলো ঠেকাতে দেওয়া হয় ভাঙ্গা রাস্তার পিচের টুকরো। তার ওপর দিয়ে সাইকেল, রিক্সা ছাড়াও বাস, লরি যাতায়াত করে। সপ্তাহে দুদিন আশপাশের এলাকার বড় হাট বসে, মঙ্গলবার ও শনিবার। কাঁকসার শিবপুর, অজয়পল্লী সহ প্রায় ২৫ গ্রামের কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী ওই হাটে দোকান বসায়। এছাড়াও এপার-ওপারে স্কুল, কলেজ অনেক পড়ুয়া টিউশিন পড়তে যাওয়া আসা করে। শিবপুর এলাকার মানুষের এককথায় সদর বাজার জয়দেব কেন্দুঁলী।
রবিবার বিকালে ঝাড়খন্ড ও অজয় নদী উপকুলবর্তী এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। আর তাতে রাতে অজয়নদীতে আচমকা হু হু করে জল বাড়তে থাকে। রবিবার সকালে জলের তোড়ে অস্থায়ী ওই রাস্তা ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা ছিল। খবর পেয়ে দুর্ঘটনা ঠেকাতে তৎপর হয় স্থানীয় প্রশাসন এবং ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। কিন্তু রাতেই জলের তোড়ে ভেঙ্গে পড়ে কাঁকসার শিবপুরের ওই অস্থায়ী রাস্তা। রাত থেকে জল বাড়তে থাকে। ফলে দুঃশ্চিন্তায় পড়ে এলাকাবাসী। নদী পারাপারে সমস্যা হয়। দুই জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বিদবিহার পঞ্চায়েত সদস্য গিরিধারী সিনহা জানান, “অজয় উপকুলবর্তী এলাকায় গত দুদিন ধরে বৃষ্টিপাতের পরিমান বেড়েছে। ঝাড়খন্ডের জলও আসছে। তার ফলেই এই বিপত্তি। জলের তোড়ে প্রতিবছরই অস্থায়ী রাস্তাটি ভেঙ্গে পড়ে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়। নদীর ওপারে জয়দেবে মঙ্গলবার ও শনিবার হাট বসে। সেখানে রুজির তাগিদে এপার থেকে শ’পাঁচেক সব্জি বিক্রেতা, অন্যান্য হকার জয়দেব হাটে দোকান বসাতে যায়। রাস্তা ভেঙ্গে পড়ায় তাদের রুজিতে টান পড়ল। বার বার এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন। আমরা বিষয়টি ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি। জলের স্রোত কমলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। নৌকা চলাচল শুরু হবে।” কাঁকসা বিডিও সুদীপ্ত ভট্টাচার্য জানান, “খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই এলাকার পঞ্চায়েতকে সতর্ক করা হয়েছে এবং গ্রামবাসীদের সতর্ক করা হয়েছে।”

